পূর্ণিমার প্রভাব : অস্বাভাবিক জোয়ারে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীন জনপদ প্লাবিত

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : গত ৩দিন যাবত বৃষ্টিহীন দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র গরম অনুভুত হচ্ছে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের সব নদনদীর পানি বেড়েছে অস্বাভাবিক। জোয়ারের পানিতে নদীতীরবর্তী জনপদ ও চরাঞ্চল প্রতিদিন দুইবার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বরিশাল নগরের মধ্যেও লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে কীর্তণখোলার জোয়ারের পানি। অনেক এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পানি উন্নয়নের বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী- গত ৩দিন যাবত দক্ষিণাঞ্চলের সব নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বরিশাল পাউবোর গেইজ রিডার (পানি পরিমাপক) আবদুর রহমান জানান, গত ৩ দিন যাবত মেঘনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর ৪টা ও বিকাল ৪টায় পানির সর্বোচ্চ লেবেল বৃদ্ধি পায়। তখন নদী উপচে পানি চর ডুবে যায় এবং নদী তীরবর্তী জনবসতি প্লাবিত হচ্ছে। তবে ভাটা শুরু হলে পানি নেমে যাচ্ছে। আব্দুর রহমান জানান, পূর্ণিমার প্রভাব এবং পূর্ব দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী পানি বাড়ছে নদনদীতে। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজ হোসাইন জানান, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তণখোলার তীরঘেষা, জিয়ানগর, পূর্ব রূপাতলীসহ বড় এলাকাজুরে সড়ক ও বসতবাড়ি গত ৩-৪ দিন যাবত পানির নিচে তলিয়ে আছে। অপেক্ষাকৃত নিচু ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকে গেছে। ভাটার সময় পানি কমলেও পুরোপুরি নামছেনা। একই অবস্থা নগরের কীর্তণখোলা তীর ঘেষা জনপদ পলাশপুর এলাকাতে।

বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের একপাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে আড়িয়াল খাঁ নদ। ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন জুয়েল জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে ইউনিয়নের নিচু জমিতে শুধু ধু ধু পানি। এক ইঞ্চি জমিও জেগে নেই। পানির চাপে বুধবার বিকালে লঞ্চঘাটের পূর্ব দিকে নতুন নির্মিত রাস্তা ভেঙ্গে পানি ঢুকে অনেক বসত বাড়ি প্লাবিত হয়।

মেঘনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বেশীরভাগ নিচু এলাকা গত কয়েকদিন যাবত পানির নিচে তলিয়ে আছে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল ঢালী জানান, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনা তীরবর্তী সব চর গত কয়েকদিন পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে দূর্ভোগে আছেন চরের বাসিন্দারা।

বানারীপাড়ার প্রতিনিধি জানান, এ উপজেলার উমারেরপাড়া, মরিচবুনিয়া ও স্বরূপাকাঠীর বলদিয়া ইউনিয়নের চামি ও গগণ এলাকার নি¤œাঞ্চল সন্ধ্যা নদীর জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে।

পাউবো’র দেয়া তথ্যমতে, মেঘনার পানি ভোলার তজুমউদ্দিন পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে ৫৭ এবং বিষখালী নদীর বরগুনার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বরিশাল নগরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তণখোলা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, পটুয়াখালীর পায়রা-বুরেশ্বর, বরগুনার বিষখালী নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

বুধবার বিকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর বেরীবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে সমুদ্রের পানি ঢুকে চম্পাপুর, লালুয়া, ধানখালী ও মহিপুর এই চার ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস ফরাজি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আকাশে মেঘলায়ের সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার থেকে বরিশালে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। গতকাল বুধবার বরিশালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ সেলসিয়াস। আগেরদিন বুধবার
ছিল ৩৩ দশমিক ৪ সেলসিয়াস। মাহফুজুর রহমান জানান, আরও দুইদিন পরে বরিশালে বৃষ্টিপাত হতে পারে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *