Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর ঢাকা-বরিশাল নৌ এবং আকাশ পথে তীব্র যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। একারনে ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথে চলাচলকারী বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার আগামী ১ আগস্ট থেকে এই রুটে তাদের ফ্লাই পরিচালনা স্থাগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

নভোএয়ারের মার্কেটিং এন্ড মিডিয়া কমিউনিকেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নিলাদ্রী মহারতœ বুধবার সমকালকে বলেন, ১ আগস্ট থেকে আপাতত বরিশাল-ঢাকা আকাশ পথে নভোএয়ারের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকবে। তবে যাত্রী বাড়লে আবারও এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা হবে। পরিস্থিতি বুঝে নভোএয়ার কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) থেকে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনে চলাচলকারী দ্রুতগামী নৌযান এমভি গ্রিন লাইনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ গত সোমবার রাতে নিজস্ব ফেইজবুক পেইজে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয় । গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ বলেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রী কমে যায়। মূলত একারনেই আপাতত ঢাকা-বরিশাল ভ্যায়া হিজলা নৌপথে গ্রিন লাইনের সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ঢাকা-কালিগঞ্জ-ইলিশা (ভোলা) রুটে এমভি গ্রিন লাইন-২ নিয়মিত চলাচল করবে।

বরিশাল বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর বরিশাল-ঢাকা আকাশ পথেও আশংকাজনকভাবে যাত্রী হ্রাস পায়। এতে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েন এই রুটের যাত্রী সেবাদানকারী বেসরকারি বিমানসংস্থা নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা। যাত্রী ধরতে রাখতে বেসরকারী এই দুই বিমানসংস্থা ঈদুল আযহার পর বরিশাল-ঢাকা আকাশ পথে ভাড়া কমিয়ে দেয়। ইউএস বাংলা প্রতি আসনে যাত্রী ভাড়া ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারন করে। নভোএয়ার ৪ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে আসন প্রতি যাত্রী ভাড়া করে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানও এ রুটে ২০০ টাকা যাত্রী ভাড়া কমায়। কিন্তু যাত্রীভাড়া কমিয়েও অপারেশন খরচ তুলতে পারছে না নভোএয়ার। ফলে তারা ১ আগষ্ট থেকে বরিশাল-ঢাকা আকাশ পথে আপাতত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। নভোএয়ারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর কারনে বরিশাল-ঢাকা এবং ঢাকা-যশোর রুটে আশংকাজনকভাবে যাত্রী হ্রাস পেয়েছে। ঢাকা-যশোর রুটের যাত্রী পরিস্থিতি কিছুটা ভালথাকায় ওই রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। ঢাকা-বরিশাল রুটে সপ্তাহে ৭ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে নভোএয়ার।

ইউএস বাংলার বরিশাল সেল্স অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এখন ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথে তাদের ৭০ আসনের জাহাজ যাত্রী পরিবহন করছে। সেতু চালু হওয়ার পর প্রায়ই তাদের প্রতিটি ফ্লাইটে একতৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইউএস বাংলা কতদিন ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথে যাত্রী সেবা দিতে পারবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল স্টেশন ব্যবস্থাপক মোঃ শওকত আলী খান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর সহজ সড়ক যোগাযোগ এবং খরচ কমে যাওয়ায় আকাশ পথে যাত্রী কমেছে। গত শনিবার থেকে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া ৩২০০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ৩০০০ টাকা।
পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা-বরিশাল নৌপথেও যাত্রী কমবে এমন গুঞ্জন ছিল সর্বমহলে। এমনকি নৌযান মালিকরাও যাত্রী সংকটে পড়ার আশংকা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই আশংকাই সত্যি হয়েছে। সেতু চালুর পর নৌপথে তীব্র যাত্রী সংকটের কারনে মঙ্গলবার থেকে দ্রুতগামী জলযান এমভি গ্রিন লাইনের দিবা সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা-বরিশাল ভ্যায়া হিজলা নৌপথে স্বল্প সময়ে দিনের বেলা যাত্রী সেবা দিয়ে আসছিল গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজ। মাত্র ৫ ঘন্টায় উভয় প্রান্ত থেকে (ঢাকা ও বরিশাল) যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিত গ্রিন লাইন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাত্রী সংকটে পড়ে তারা সার্ভিস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে রাত্রিকালীন নৌযান মালিকরাও আছেন দুশ্চিন্তায়। পদ্মা সেতু চালূ হওয়ার আগে বরিশালের সর্বস্তরের যাত্রীরা নিরাপদ এবং আরামদায়ক হিসেবে লঞ্চেই ঢাকা এবং বরিশালে যাতায়ত করতেন। কিন্তু সেতু চালুহওয়ার পর যাত্রীরা লঞ্চ বিমুখ হয়ে সড়ক পথে যাতায়তের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে যাত্রী সংকটের পড়ে সেতু চালুর পরদিন অর্থ্যাৎ ২৬ জুন থেকেই লঞ্চ মালিকরা যাত্রী ধরে রাখতে ভাড়া কমিয়েছিলেন। তবে ঈদুল আযহার সময় যাত্রীচাপ বেড়ে গেলে আবার ভাড়া বাড়ান লঞ্চ মালিকরা। তবে ঈদে বাড়ি ফেরা এবং কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চাপ কমে যাওয়ার পর আবার নৌপথে যাত্রী কমে যায়। এ কারনে আবারও কমানো হয়েছে লঞ্চের ভাড়া।

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ঈদুল আযহার পর আবার যাত্রী কমে গেছে। আমরা লঞ্চ মালিকরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। সুরভী লঞ্চ কোম্পানীর পরিচালক মোঃ রিয়াজ উল কবির বলেন, যাত্রী সংকটের কারনে সব লঞ্চের ভাড়া কোরবানীর পর কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নৌযান মালিকদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চল থেকে সড়ক পথে যাত্রী চাপ ২-৩ গুণ বেড়ে যায়। এতে দক্ষিণের নৌরুটগুলোতে তীব্র যাত্রী সংকট দেখা দেয়। বরিশাল থেকে প্রতি আধা ঘণ্টা পর পর বেসরকারি পরিবহন এবং বিআরটিসি’র বাস যাত্রী নিয়ে ছোটে ঢাকার উদ্দেশ্যে। নতুন নতুন পরিবহন যুক্ত হচ্ছে বরিশাল তথা দক্ষিণের ৬ জেলার সড়ক রুটগুলোতে। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *