চুপিসারে বেশী ভাড়া নিচ্ছেন লঞ্চে : দ্বিগুন বৃদ্ধির দাবী মালিকদের

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : জ্বালানী তেলের মুল্যবৃদ্ধিতে নৌযাত্রী পরিবহন সেক্টরেও অস্থিরতার ঢেউ লেগেছে। শুক্রবার রাতে মূল্যবৃদ্ধির একদিন পর রোববার থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীন রুটে লঞ্চে যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিটি রুটে গড়ে ৩০ ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন লঞ্চ মালিকরা। এক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের দাবী, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই রয়েছেন। আগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে তার কম নিতেন।

অপরদিকে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌযাত্রী পরিবহন সংস্থা যাত্রীভাড়া শতভাগ বৃদ্ধির জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছে প্রস্তাব রেখেছেন। অর্থাৎ এখন যে ভাড়া নেয়া হচ্ছে তা দ্বিগুন করার দাবী জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

অভ্যন্তরীন নৌযাত্রী পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী রোববার জানান, যাত্রীভাড়া বৃদ্ধির লিখিত প্রস্তাব নিয়ে তারা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তারা যাত্রীভাড়া শতভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন। পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএ এবং লঞ্চ মালিকদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে বৃদ্ধির হার চুড়ান্ত হবে। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, লঞ্চ ভাড়া বাড়ছে এটা নিশ্চিত। ভাড়া বৃদ্ধি করা না হলে নৌপরিবহন পরিবহন ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

রোববার দুপুরে বরিশাল নৌবন্দরে লঞ্চ কর্মচারী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভ্যন্তরীন সব রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। নৌযানের কর্মচারীরা জানান, মালিকদের মৌখিক নির্দেশে তারা রোববার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। বরিশাল নৌবন্দর থেকে অভ্যন্তরীন ১৭টি রুটে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল করে। তারমধ্যে সর্বাধিক যাত্রী হয় বরিশাল-ভোলা রুটে।

এ রুটের লঞ্চ এম.ভি আল আরাফাত লঞ্চের চালক মো. শাহবুদ্দিন বলেন, শনিবার পর্যন্ত তারা বরিশাল-ভোলা রুটে প্রথম শ্রেণী ১২০ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৯০ টাকা করে যাত্রীভাড়া নিয়েছেন। রোববার থেকে প্রথম শ্রেণীতে ১৫০ এবং দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

তিনি হিসাব কষে দেখান, বরিশাল-ভোলায় একটি রাউন্ড ট্রিপে ৮০ লিটার ডিজেল ব্যয় হয়। যার দাম আগে ছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকা। শনিবার মূল্যবৃদ্ধির পর সমপরিমান ডিজেল কিনতে হচ্ছে ৯ হাজার ১২০ টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ২৫০ টাকা।

চালক শাহাবুদ্দিনের দেয়া তথ্যমতে, বরিশাল-ভোলা রুটে একটি রাউন্ড ট্রিপে গড় যাত্রী হয় ২৫০ জন। যাত্রী প্রতি অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে ৩০ টাকা করে। সে হিসাবে মোট বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। ২ হাজার ২৫০ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে সাড়ে ৭ হাজার টাকা এর কারন জানতে চাইলে চালক শাহাবুদ্দিন বলেন, লঞ্চের অন্যন্য ব্যয়ও বেড়েছে।

অপরদিকে লঞ্চ মালিক স্বপন খান বলেন, বরিশাল-ভোলা রুটে সরকার নির্ধারিত প্রথম শ্রেণীর যাত্রী ভাড়া ১৫৭ টাকা। মালিকরা এতদিন ১২০ টাকা নিতেন। জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির পর ১৫০ টাকা নিচ্ছেন জানিয়ে বলেন, এখনও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৭ টাকা কম নিচ্ছেন। আরেক লঞ্চ মালিক শেখ আব্দুর রহিম বলেন, বিদেশ অবস্থানরত নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ সুজন এমপি ঢাকায় ফেরার পর লঞ্চ মালিকদের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাড়া নিয়ে সভা হবে। তখন ভাড়া আরও বাড়বে।

বরিশাল-হিজলা রুটে এমভি আল মদিনা লঞ্চে ১২০ টাকার ভাড়া ১৫০ নেয়া হচ্ছে। ওই লঞ্চের সুকানী রুস্তুম আলী বলেন, আগে ১২০ লিটার তেল কিনতেন সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। এখন লাগছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। ভাড়া না বাড়ালে মালিককে কিভাবে তার টার্গেট বুঝিয়ে দিবেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর চালুর পর যাত্রী সংকটে পড়া ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে ডেকযাত্রীদের কাছে ২০০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হতো। রোববার থেকে ৩৫০ টাকা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। তবে ভিআইপি কেবিন এবং সাধারন কেবিন যাত্রীভাড়া এখনও বৃদ্ধি করা হয়নি। এক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যে থাকার দাবী করেছেন লঞ্চ মালিকরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের সুরভী লঞ্চ কোম্পানীর পরিচালক রিয়াজ উল কবির জানান, নতুন ভাড়া নির্ধারনের বিষয়ে আগামী ১১ আগষ্ট লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ সভা আহ্বান করেছেন। ওই সভায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থাকার সম্ভবনা রয়েছে। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *