সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতু নির্মান : জনগণের দূর্ভোগ আরও বেড়েছে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে পোড়াধন খালের ওপর একটি সেতু নির্মান কাজ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। কিন্ত আজ পর্যন্ত সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত সেতুটি জনগণের উপকারেতো আসছেনা, বরঞ্চ দূর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। অস্থায়ীভাবে স্থাপিত কাঠের সাকোর ওপর দিয়ে উচু সেতুতে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, হানুয়া বাজার সংলগ্ন পোড়ারধন খালের ওপর ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার লম্বা ও সাড়ে ৫ মিটার প্রশস্ত গার্ডার সেতুটি নির্মিত হয়। ২০১৮-২০ অর্থ বছরে সেতু নির্মানে কার্যাদেশ পান ঠিকাদার অ্যাডভোকেট নাসির মাঝি। তিনি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করে গতবছর (২০২১) এপ্রিল মাসে সেতু নির্মান কাজ শেষ করেন। আজ পর্যন্ত সেতুর দুইপাশে সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি। সেতুতে ওঠানামা করার জন্য দুইপাশে স্থানীয় উদ্যেগে কাঠের সাকো স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ মুন্না জানান, সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুটি স্থানীয়দের দূর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। সেতুর দুইপ্রান্তে দুটি বাজার রয়েছে। হানুয়া মতিজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবাই ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজ, ঢোলা রিয়াজ উদ্দিন মাদরাসাসহ কমপক্ষে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং পেয়ারপুর বাজার ও লক্ষীপাশা বাজার যাতায়াতে গ্রামবাসী এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন। মুন্না বলেন, কাঠের সাকো দিয়ে উচু সেতুতে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রায় পড়ে আহত হচ্ছেন শিক্ষার্থী এবং বয়োবৃদ্ধরা।

কবাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাদল তালুকদার জানান, সেতু নির্মান কাজ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মান করা হয়নি। সংযোগ সড়ক নির্মানে কোন বাঁধা আছে কিনা এসব নিয়ে ঠিকদার ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর আজ পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। চেয়ারম্যান বলেন, সেতুর পাশেই বাজারসহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ ঝুকি নিয়ে অসম্পন্ন সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের সাংবাদিকদের বলেন, সেতুর দুইপাশে সংযোগ সড়ক স্থাপনের জায়গায় দোকানপাট রয়েছে। সেগুলো অপসারন না করায় সড়ক নির্মান করতে পারছেন না। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বাদল তালুকদার বলেন, এগুলো খোড়া অজুহাত। অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা উচ্ছেদে প্রকৌশল দপ্তর আজ পর্যন্ত তার সহযোগীতা চায়নি।

অপরদিকে ঠিকাদার অ্যাডভোকেট নাসির মাঝি বলেন, মূল সেতুর সঙ্গে যে সংযোগ সড়কের নকশা দেয়া হয়েছিল বাস্তবে সেভাবে নির্মান করা সম্ভব নয়। তাই নতুন করে সংযোগ সড়কের নকশা এলজিইডির প্রধান দপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনতে হবে। এ কাজটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। তারা নতুন নকশা তৈরী ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আজ পর্যন্ত করতে পারেননি। নাসির মাঝি দাবী করেন, সংযোগ সড়ক নির্মানে মালামাল মজুদসহ তার প্রস্ততি রয়েছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারনে তিনি কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। তিনি এজন্য গত এপ্রিল ও মে মাসে পর পর দুইবার এলজিইডি কর্তপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *