নাগরিক রিপোর্ট : ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসষ্টান্ড এলাকায় ছোট একটি সেতু অতিক্রম করতে হয়। সেতুতে দাঁড়িয়ে নিচে উকি দিলে মনে হবে মজা খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়েছে। যে কেউ এটা দৃঢ় বিশ্বাসও করবেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাকেরগঞ্জ শহরের বুক চিড়ে একে বেকে যাওযা এ জলধারটি খাল নয়, একসময়ের খর¯্রােতা শ্রীমন্ত নদী।
দেশের নদনদী সংরক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদীর তালিকায় এখনও বাকেরগঞ্জের ‘শ্রীমন্ত নদী’ নামটি রয়েছে। দুপাশের তীর দখল ও দুষনে ‘শ্রীমন্ত’ নদীর ‘শ্রী’ হারিয়েছে বহু বছর আগে। এখন সেটি বিলুপ্তির পথে ধাবিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। পৌর শহরের মধ্যে শ্রীমন্ত নদীর ৩ কিলোমিটারের পুরোটাই দখলদারদের নিয়ন্ত্রনে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী সবই আছেন দখলদারের তালিকায়। শহরের মধ্যে দখলের চিত্রই বলে দেয়- একটি খর¯্রােতা নদী কিভাবে হত্যা করা যায়। মাত্র দুই দশক সময়ের মধ্যে শ্রীমন্ত নদীর এমন মৃত্যু হয়েছে বলে জানিযেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত তুলাতলী নদী শ্রীমন্ত নদীর উৎস মুখ। শহরে মাঝ দিয়ে পশ্চিম দিকে চলে গেছে নদীটি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শ্রীমন্ত নদী প্রায় ২২ কিলোমিটার লম্বা। তুলাতলী নদী থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত অংশটি মাঝ বরাবরে এসে দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। মুলধারাটি কানকি নামক স্থানে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের পাশ দিয়ে পায়রা নদীতে মিশেছে। অপর অংশটি বাকেরগঞ্জের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন বন্দর কালিগঞ্জ, নেয়ামতি হয়ে মিশেষে বিষখালী নদীর সঙ্গে। পৌর শহরের জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা মেটাতো শ্রীমন্ত নদী। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোনে হাওলাদার জানান, শ্রীমন্ত নদীর দুইতীরের বাসিন্দদের স্যুয়ারেজ সংযোগ দেয়া হয়েছে নদীতে। এতে নদীর পানিও ব্যবহার উপযোগীতা হারিয়েছে।
বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের একাধিকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ম্যাপ অনুযায়ী শ্রীমন্ত নদীর প্রশস্তততা স্থানভেদে সর্বনি¤œ ১৫০ থেকে ৬০০ ফুট পর্যন্ত। দুই যুগ আগেও এই প্রশস্ততা বহাল ছিল। তখন বাতাসে ঢেউয়ের শব্দ ভেসে বেড়াতো। বাহারী পানসি, লঞ্চ, ট্রলার, নৌকা ছুটতো নদীর বুক চীরে। এ অঞ্চলে বড় বন্দর ও হাট-বাজার নলছিটির মোল্লারহাট, মীর্জাগঞ্জের সুবিদখালী, চান্দুখালী এবং বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলার পণ্যবাহি নৌযানের প্রধান রুট ছিল শ্রীমন্ত নদী। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। দখলের কবলে পড়ে শ্রীমন্ত নদীর উত্তাল ঢেউ আর ¯্রােত হারিয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। এখন আর নদী আগের অবস্থায় উদ্ধার নয়, দখলদারের কবল থেকে বর্তমান খালটি বাঁচিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাকেরগঞ্জবাসী।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর দুইপাশে ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনপদ। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তুলাতলী নদীতে উৎস্য মুখে থেকেই দখল শুরু। এই ওয়ার্ডের মরহুম আবদুর রশিদ পৌর কাউন্সিলর থাকাকালীন শ্রীমন্ত নদীর উৎসমুখ দখল করে ভবন নির্মান করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এরপরে সামনের দিকে যতই অগ্রসর হয়েছে দখলে সরু হয়ে মৃত খালে পরিনত হয়েছে। পৌর শহরে ৩ কিলোটিমার শ্রীমন্ত নদীর পুরোটার চিত্র একই।
বাকেরগঞ্জ বাসষ্টান্ড সংলগ্ন সেতুর ওপর দাড়িয়ে দেখে গেছে, নদীর দুইতীর ভরাট করে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় পাকা-আধাপাকা অসংখ্য ভবন। সেতুর পশ্চিমে আল আমিন মসজিদ থেকে শুরু হয়ে পুর্বে থানা ভবন পর্যন্ত ১ কিলেমিটারে আফসার মার্কেট, গাজী মঞ্জিলসহ সব পাকা-আধাপাকা নির্মিত হয়েছে শ্রীমন্ত নদী দখল করে।
৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন বলেন, শ্রীমন্ত নদী দখলদারের দলে আছেন স্থানীয় শীর্ষ জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেকে। ভাঙ্গন ঠেকানোর অজুহাত তুলে ব্লক ফেলে সৌন্দর্যবর্ধনসহ নানা ফন্দিতে নদী দখল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরিশালের সমম্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, শ্রীমন্ত নদী জীবিত করার জন্য সবার আগে সীমানা নির্ধারন ও দখলদারদের উচ্ছেদ করার উদ্যেগ নিতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে। এরপরে খনন করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। এই দুটি কাজ করতে ব্যর্থ হলে নদীর অস্তিত্ব যেটুকু আছে সেটুকুও হারিয়ে যাবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরর বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, শ্রীমন্ত নদী তাদের আওতাধীন নয়। তারপরও এটির পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের একটি প্রকল্পর আওতায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দুইমাস আগে ৪ দশমিক ৪৮ মিটার খনন করেছেন। এতে পৌর শহরের অংশে পানির প্রবাহ ফিরে এসেছে।
বরিশাল পাউবোর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, শ্রীমন্ত নদীর পূর্বের অবস্থা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এখন যেভাবে আছে সেটাকে কিভাবে রক্ষা করা যায় তার একটি উদ্যেগ নিয়েছেন তারা। এ কর্মকর্তা বলেন, ৬৪ জেলায় ছোট নদী-খাল খনন ও সংরক্ষন প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের আওতায় বরিশালের অনেকগুলো নদী-খাল খননের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে শ্রীমন্ত নদীও রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করা যাবে।##

Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me?
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.