বরিশাল নগরী মুখর দূর্গোৎসবের আমেজে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : ১৫০ বছরের পুরানো বরিশাল মহানগরীর ফলপট্টি কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্দিরে দূর্গাপুজা হয় ২৭ বছর ধরে। ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নয়নাভিরাম সাজসজ্জার জন্য ১৪ বার কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্দির শ্রেষ্ঠ দূর্গাপুজা মন্দিরের পুরস্কার পেয়েছে। এই মন্ডপের পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, এ বছর করোনার প্রভাব নেই। তাই নান্দনিক প্রতিমা ও চোখ ধাঁধানো সাজসজ্জার আয়োজন করেছি। গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর থেকে আনা হয়েছে দেশ সেরা ঢাকিদের। এ বছর দূর্গামায়ের পুজা হবে বিপুল আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে। মায়ের পূজার আয়োজনে কোন ঘাটতি রাখতে চাইনা।

শুক্রবার মধ্যাহ্নে কালিমাতা ঠাকুরানী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ির প্রতিমা শিল্পী নিতাই পাল দারুন ব্যস্ত সহকর্মীদের নিয়ে। প্রতিমায় শেষ সময়ের রং তুলির কাজ করছেন তারা। নগরীতে ৬টি মন্ডপের প্রতিমা গড়েছেন নিতাই পাল। তাই তার ব্যস্ততা একটু বেশিই দেখা গেছে।
ফলপট্টির কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্দিরের দূর্গাপুজা কমিটির সভাপতি ললিত দাস বলেন, আজ শনিবার ষষ্ঠী পূজার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্ডপে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। রাত সাড়ে ৮ টায় মন্ডপ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে নাটক ‘অকাল বোধন’।

পুকুরের মধ্যে বাঁশ-কাঠের বিশাল প্যান্ডেল করে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে কালিবাড়ি সড়কের পাষাণময়ী কালিমন্দিরে। দেড়শ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরে দূর্গাপুজা হয় ৫৯ বছর ধরে। পাষাণময়ী কালিমন্দির প্রাঙ্গণে কথা হয় দূর্গাপুজা কমিটির সভাপতি তাপস কর্মকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ শেষ করেছেন শিল্পী সুশেন পাল। এবার করোনার চাপ নেই। তাই পূজার আয়োজনে কোন কমতি নেই।

পাষাণময়ী কালিমন্দিরের পুরোহিত দুলাল ভট্টাচার্য্য বলেন, আজ শনিবার মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবি দূর্গা আসনে উঠবেন। রোববার মহাসপ্তমী পূজা। মহাঅষ্টমী সোমবার, মঙ্গলবার নবমী পূজা এবং বুধবার দশমী পূজা শেষে দেবীর বিসর্জন হবে।

১৯১০ সাল থেকে দূর্গাপুজা হয় নগরীর ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ সংলগ্ন ঐতিহাসিক শংকর মঠে। শংকর মঠ দূর্গাপুজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি কিশোর কুমার দে জানান, করোনার কারনে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে দূর্গাপুজা হয়েছে। তাই এ বছর গোটা মন্ডপ প্রাঙ্গণ জুড়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মন্ডপের পুকুরকে সজ্জিত করা হয়েছে দৃষ্টি নন্দন আলোকসজ্জায়। শংকর মঠ পূজা মন্দিরে সোমবার অষ্টমী পূজার দিন দুপুরে সকল ভক্ত দর্শনার্থীদের মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নজমুল হোসেন আকাশ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নগর ঘুরে দেখেছি শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়েছে গোটা নগরী। এতে নগরী এখন পরিনত হয়েছে আলোক মালার নগরীতে। সন্ধ্যা হতেই বাহারী আলোক সজ্জায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে নগরী।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি তমাল মালাকার বলেন, এ বছর বরিশাল মহানগরে ৪৫ টি মন্ডপে দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সার্বজনীন পূজা ৩৯টি এবং ব্যক্তিগত পূজা ৬ টি। বিভিন্ন মন্দিরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতাসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে ভক্ত দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেওয়ার জন্য। দূর্গোৎসবকে ঘিরে গোটা বরিশাল নগরী এখন উৎসবের আমেজে মুখর।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক মুখার্জী বলেন, এ বছর জেলায় ৬০০ টি মন্ডপে দূর্গাপুজা হবে। সর্বাধিক ১৬৩টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায়। সবগুলো মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটিগুলোকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে নগরীর সবগুলো মন্দিরে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকেই নগরীর প্রত্যেকটি মন্দিরে ৮ সদস্যের আনসার টিম মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কঠোর নজরদারীতে রাখা হবে সবগুলো মন্দির।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, জেলার ৬০০ দূর্গাপুজা মন্দিরে নিরাপত্তার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *