বরিশালে ফিরছেন বিএনপির সেই রাজন : দলে নতুন মেরুকরনের আভাস

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ন নেতা ছিলেন। জেলা সাধারন সম্পাদক ও বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। দলের নিয়ন্ত্রক তারেক রহমানের আস্থাভাজন হওয়ায় ছিলেন যথেষ্ট প্রভাবশালী। বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক থাকাবস্থায় ২০১১ সালের ১১মে দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেন তিনি। বিএনপির তখনকার স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম বিগ্রেডিয়ার (অব:) হান্নান শাহর সঙ্গে এক গাড়িতে থাকা অবস্থায় নগরের চরকাউয়া ফেরীঘাটে তিনি হামলার শিকার হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে তিনি আমেরিকা প্রবাসী।

রাজনবিহীন বরিশাল বিএনপির গত ৮ বছরে ব্যাপক ওলট-পালট ও নানা মেরুকরন হয়েছে। সেই সময়ের বিএনপি নেতাদের কারো পতন আবার কারো হয়েছে উত্থান। তাকে আঘাতকারী হিসাবে অভিযুক্ত কেউ রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছেন, আবার কেউ পদোন্নতিতে দলে পাকাপোক্ত হয়েছেন। গত ৯ ডিসেম্বর দেশে ফিরে স্থায়ী হওয়া এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষনায় বরিশাল বিএনপিতে রাজনকে নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। বহুভাগে বিভক্ত বরিশাল বিএনপিতে রাজনকে ঘিরে আরেকটি মেরুরনের উত্থান হচ্ছে বলে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সুত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, রাজন ঢাকায় ফিরে ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশে অংশগ্রহন করেন। অনুসারীরা তাকে নিয়ে রাজধানীতে শোডাউনও করেছেন। এখন শোডাউন করে বরিশালে ফেরার প্রস্ততি চলছে।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বরিশালে দলের কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করবেন। তার আগে যেকোন দিন তিনি বরিশালে পৌছবেন। শোডাউন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুসারীরা চাইলেও তিনি সংবর্ধনা নেবেন না। কারন দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বন্দী। শীর্ষ নেতাকর্মীরা কারাগারে। এ অবস্থায় তিনি শোডাউন না করার জন্য অনুসারীদের নিরুৎসাহিত করছেন।

দেশে স্থায়ীভাবে রাজনীতি করবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি রাজনীতির মানুষ, রাজনীতিই করবো। আগে কেন্দ্রের নেতা ছিলাম। এখনও কেন্দ্রে থাকবো। তবে দলের প্রয়োজনে আমাকে যদি বরিশালে পাঠানো হয়, তাহলে বরিশালের রাজনীতিতে জড়াবো।

জানা গেছে, নজরুল ইসলাম খান রাজন গত ১৫ নভেম্বর থেকে কয়েকদিন লন্ডনে অবস্থান করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাত করেছেন। ২২ নভেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির বরিশাল বিভাগ শাখা তাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। তারেক জিয়ার আগ্রহেই তিনি বরিশালের রাজনীতিতে ফিরছেন।

জেলা না মহানগর ? : অনুসারী একাধিকজন নিশ্চিত করেছেন নজরুল ইসলাম রাজন বরিশাল বিএনপিতে পাকাপোক্ত হচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, তাকে জেলা অথবা মহানগরের গুরুত্বপূর্ন পদ দেয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেলা ও মহানগর দুটিই চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে তাকে যেকোন একটি ইউনিটের সভাপতি পদ দেয়া হবে। রাজন ঢাকায় গণসমাবেশে জেলা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পৃথক দুটি শোডাউনে অংশগ্রহন করেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শোডাউনের সঙ্গে বরিশাল ৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহনের সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে চাইলে রাজন বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর।

হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযুক্তরা কোথায় : রাজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হুকুমের আসামী ছিলেন তখনকার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমানে দলের যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। গতবছর ৩ নভেম্বর সরোয়ারের নেতৃত্বাধীন মহানগর কমিটি বিলূপ্ত করে তার বিরোধীদের পদায়ন করে আহ্বায়ক কমিিিট গঠন করা হয়। এরফলে বরিশাল বিএনপিতে টানা ৩ যুগের একক আধিপত্য হারান সরোয়ার।
হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল- ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসানের (সরোয়ারের তখনকার আস্থাভাজন) নেতৃত্বে তাকে নির্মমভাবে কোপানো হয়। রতন এখন সরোয়ারবিরোধী শিবিরে ভিড়ে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক পদে আছেন। অভিযুক্ত তখনকার ছাত্রদল নেতা মাসুদ হাসান মামুন মহানগর যুবদলের সাধারন সম্পাদক হয়েছিলেন। প্রায় দুইবছর আগে বহিস্কৃত হয়ে রাজনীতিতে কোনঠাসা তিনি। আরেক আসামী তখনকার ছাত্রদল নেতা ফিরোজ খান কালুকে ২০১৪ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে চট্রগ্রাম থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর নিঁখোজ রয়েছেন। অভিযুক্ত সোহেল রাঢ়ী বর্তমানে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

কি ঘটেছিল সেদিন : হান্নান শাহর নেতৃত্বে ভোলা সফরকারী সাংগঠনিক টিমের সদস্য সচিব ছিলেন নজরুল ইসলাম খান রাজন। ভোলা সফর শেষে ফেরীতে তাদের গাড়ির বহর কীর্তণখোালার চরকাউয়া পয়েন্টে পৌছায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে। গাড়ি ফেরীতে থাকাবস্থাতেই তখনকার যুবদল-ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী হান্নান শাহর গাড়িতে বসা রাজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে বীরদর্পে চলে যান। এ ঘটনায় তখনকার দাপুটে নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারকে দায়ী করে তার বিরোধীরা টানা কয়েকদিন নগরে বিক্ষোভ করেছিলেন। রাজন জানান, তিনি দেশ ত্যাগের আগেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। হামলাকারীদের প্রতি তার কোন রাগ-অভিমান নেই। ঢাকায় কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার কুশল বিনিময় করেছেন।

১ Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *