নাগরিক রিপোর্ট : সাগরতীরের মৎস্যমোকাম বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিএফডিসি পাইকারী বাজার শনিবার সকালে ইলিশে ভরপুর ছিল। দিনশেষে ৩ শতাধিক মন ইলিশ বিক্রি হয় এই মোকামে। যা ছিল গত দুইমাসের মধ্যে মোকামের ব্যতিক্রম চিত্র। সাগরে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ৪৮ ঘন্টা আগেই জেলেরা মৎস্য নিধন শুরু করায় ইলিশ আমদানী বেড়েছে বলে জানা গেছে। সুত্র জানিয়েছে, গত ২০ মে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর পাথরঘাটা মোকামে একদিনে ৭-৮ মনের বেশী ইলিশ বেচাকেনা হতোনা।
ইলিশ আমদানী বেড়েছে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড মোকামেও। দামও কমেছে প্রতিকেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগমুহুর্তে আমদানী ও দাম কমে যাওয়াকে ইলিশ বাজারের জন্য ইতিবাচক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য অধিপ্তর সুত্রে জানা গেছে, আজ রোববার মধ্যরাতে শেষ হবে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের (নদী ও সাগর) জলসীমায় ইলিশ আহোরনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। সে হিসাবে আগামী আড়াই মাস ইলিশের ভরপুর মৌসুম শুরু হবে আজ মধ্যরাতে। এতে মোকামে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা কমতে পারে বলে আশাবাদী সকলে। যদিও মৎস্য অধিদপ্তরের ক্যালেন্ডারের হিসাবে গত ১ জুলাই থেকে ইলিশ মৌসুম শুরু হয়েছে।
বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ আহোরনে বার্ষিক লক্ষমাত্রার দুই তৃতীয়াংশ পুরন হয় এই সময়ে। সে হিসাবে আগামী আড়াই মাস ইলিশের ভরপুর মৌসুম। এ কর্মকর্তা বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে সাগর ছেড়ে নদীর দিকে ছুটে। তখনই জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আগামী পূর্ণিমার (আগষ্টের শুরুতে) প্রভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ইলিশ বেশী পাওয়ার সম্ভবনা আছে বলে জানান ড. বিমল।
মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশ নিধনে পরবর্তী নিষেধজ্ঞা দেয়া হবে আশ্বিনের প্রজনন মৌসুমে। ইলিশ সারাবছর ডিম দিলেও বেশীরভাগ ইলিশ ডিম দেয় আশ্বিনের পূর্ণিমায়। তাই ওই সময়টাকে মুল প্রজনন মৌসুম গণ্য করা হয়। তাই আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট ২২ দিন ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এর সম্ভাব্য সময় আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ হতে পারে।
পাথরঘাটা মোকামে ইলিশ বিক্রি করতে আসা সদর ইউনিয়নের ঝিনতলা গ্রামের জেলে আনসার মোল্লা জানান, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে সাগরে যাওয়া জেলেরা বড় আকারের ইলিশ নিয়ে ফিরছেন। শনিবার বিএফডিসি পাইকারি বাজারে এক কেজির বেশী আকারের ইলিশ দুই হাজার ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ইলিশের কেজি ছিল ১ হাজার ৮৭৫ টাকা।
বিএফডিসি মোকামের ইলিশ ব্যবসায়ী শহিদ মোল্লা জানান, বৈরী আবহাওয়া সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা গভীর সাগরে যেতে পারছেন না। মোহনা ও সুন্দরবনের কাছাকাছি থেকে জেলেরা ইলিশ নিধন করছেন।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই মোকামে ৩ শতাধিক মন ইলিশ আমদানীর উৎস জানতে চাইলে পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে জেলেরা উপকূলের কাছাকাছি থেকে ইলিশ নিধন করছেন। যে কারনে ইলিশের আমদানী বেড়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ৪৮ ঘন্টা আগে ইলিশের আমদানী ও দাম দুটিই কমেছে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মোকামে। মৎস্য আড়তদার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, শনিবার মোকামে ১২০ মন ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে। গত একমাস যাবত একদিনের ইলিশ বেচাকেনা ৫০ মন অতিক্রম করতোনা। তিনি জানান, দামও কমেছে প্রকার ভেদে পাইকারীতে প্রতিকেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। শনিবার বরিশাল মোকামে পাইকারী দর ছিল ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ইলিশের কেজি ১৪০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছ ১ হাজার ১০০ টাকা। এই দু্িট আকারের ইলিশের চাহিদা সবচেয়ে বেশী। কেজি সাইজ ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। ##

Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!
Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.