নাগরিক রিপোর্ট:
ভোটের প্রচারে আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে প্রস্তুতির শেষ নেই। সফল সফল করতে শনিবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় বর্ধিত সভা। ওই সভায় চাচা মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং ভাতিজা নগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে একই মঞ্চে দেখা গেলেও নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি করতালীতে বিভক্তির ছাপ স্পস্ট হয়ে ফুটে ওঠে। মেয়র খোকন ও সাদিক অনুসারীদের সুত্রে জানা গেছে, দুই পক্ষরই এখন নজর কে কত কর্মী আনতে পারে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভায়। দলের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভায় ১০ লক্ষাধীক মানুষের জমায়েত ঘটবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফলে গঠিত কমিটির সদস্য বলরাম পোদ্দার বলেন, আমাদের প্রস্তুতি ব্যাপক। এ লক্ষ্যে গতকাল বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর প্রধান সমন্বয়ক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। সমন্বয়ক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি এবং মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। এছাড়া যোগাযোগ ও আপ্পায়ন এবং শৃংখলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিনত করতে একাট্টা হয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
দলে প্রতিযোগিতার কারনে ডিভিশন থাকতেই পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মতবিরাধ নাই। নির্বাচনী প্রচারনা অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীর সফরই আমাদের জন্য মুখ্য বিষয় বলে জানান বলরাম।
শনিবার সকাল ১১টায় বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আমির হোসেন আমু এমপি। তিনি বক্তব্যে বলেন, এই জনসভা সারাদেশের নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। বরিশালবাসী বঞ্চিত ছিল। শেখ হাসিনা বরিশালে কল্পনাতিত উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। তাই এই বিভাগের মানুষকে জনসভা জনসমুদ্র পরিনত করা উচিৎ। তিনি বলেন, বিএনপি স্বরযন্ত্র করে যাচ্ছে। সকল স্বরযন্ত্র উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা নির্বাচন করে যাচ্ছেন।
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় ঝালকাঠী উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক বক্তব্যে বলেন, সভা মঞ্চে আছেন আমাদের চাচা-ভাতিজা। এসময় সকলে করতালী দিলে নেতাকর্মীদের চোখ চাচা খোকন এবং ভাতিজা সাদিকের দিকে যায়।
নগর সাধারন সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ তার বক্তব্য বলেন, এই বর্ধিত সভার সবচেয়ে আকষর্ন হচ্ছেন আমার চাচা খোকন সেরনিয়াবাত। এসময় তার অনুসারীদের করতালীতে ক্লাব মিলনায়তন যেন ফেটে পড়ে। সাদিক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন, কিন্তু এবার সবার মধ্যেই উৎফুল্লতার কমতি আছে।
অপরদিকে মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত বক্তব্য দেয়াকালেও তার অনুসারীরা করতালী দিয়ে এর পাল্টা জবাব দেন। মেয়র খোকন ভাতিজা সাদিকের নাম উচ্চারন না করে বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফলে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি আছে। আমিও সাধ্যমত চেষ্টা করছি। আমার নির্বাচনী অঙ্গিকার নতুন বরিশাল গড়াতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চাচা ভাকিজা যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন খোকন ও সাদিকের বিপুল সংখ্যক অনুসারী বাহিরে অবস্থান করছিলেন।
বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন ওর্য়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আ’লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড: আফজাল হোসেন প্রমূখ।
এদিকে দুপুরে জনসভা স্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে সেখানে আইনশৃংখলা বাহিনী ঘিরে আছে। চলছে মঞ্চ তৈরি। যদিও গত বৃহস্পতিবার জনসভা স্থল নিয়ন্ত্রনে নেয়াকে কেন্দ্র করে মেয়র খোকন অনুসারী কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং সাদিক অনুসারী আ’লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুল সেখানে অবস্থান নেন। পরে মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত ছিল।
জানতে চাইলে সাদিক অনুসারী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, আমরা মাঠেই থাকবো, মঞ্চেও থাকবো। কেননা চ্যালেঞ্জ এবার অনেক। এজন্য যত ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তা করা হচ্ছে। নেতাকর্মীতে জনসভাস্থল সয়লাব হয়ে যাবে।
জানা গেছে, গত বুধবার বরিশাল সার্কিট হাউজে এক প্রস্তুতি সভায় মেয়র সাদিক এবং নগর সভাপতি জাহাঙ্গিরের জনসভা মঞ্চে উঠা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। যেকারনে শনিবারের বর্ধিত সভায়ও বরিশাল ক্লাবে দুই গ্রুপের অবস্থানে অস্থিরতা বিরাজ করে।
এব্যপারে খোকন অনুসারী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড: আফজালুল করিম বলেন, জনসভায় ব্যাপক সমাগম ঘটানোই তাদের প্রধান টার্গেট। এজন্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং মেয়র খোকন সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন।##
