নাগরিক রিপোর্ট
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের একজন জেস্ঠ্য শিক্ষক কর্তৃক অশোভন আচারনের তদন্ত আলোর মুখ দেখছে না। তদন্ত কমিটি গঠনের ২৫ দিন পর কমিটির সদস্যরা প্রতিবাদী কয়েকজন ছাত্রী এবং অতিথি শিক্ষকের সাক্ষগ্রহনের নামে হুমকি ধামকি দিয়ে অনেকটা নাজেহাল করেছেন। তারা অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান তালুকদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী শিক্ষক ওবায়দুর রহমান তালুকদার— পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, ধর্মীয় লেবাস নিয়ে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন, বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেন এবং শ্রেণিকক্ষে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা করেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কলেজে ডেকে সাক্ষগ্রহন করা হয় বাংলা বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক তানজিলা বেগম সকালের। এসময় তদন্ত কমিটির প্রধান ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাস কুমার মণ্ডল শিক্ষিকা সকালের কাছে জানতে চান কেন এ ঘটনা সাংবাদিকরা আগে জানলো। আপনি ছাত্রীদের সাহস জুগিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। শিক্ষিকা সকাল বলেন, তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষায় তাকে কথা বলতেই দেননি। বরং শিক্ষক ওবায়দুর রহমানের পক্ষে সাফাই গেয়ে কমিটির প্রধান সুভাষ স্যার তাকে ধমকিয়েছেন। সুভাষ স্যার বলেছেন, সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হাল্কা হয়ে গেছে।
জানা গেছে, এর আগে গত সোমবার অভিযোগ দেয়া ৪ থেকে ৫ জন ছাত্রীকে তদন্ত কমিটি ডেকে সাক্ষগ্রহন করে। ওই দিন ছাত্রীদের হুমকী দিয়ে কমিটির প্রধান প্রভাষ কুমার বলেছেন এখন যদি ৫০জন ছাত্রী শিক্ষকের পক্ষে লিখিত দেয় তাহলে তোমাদের অভিযোগ টিকবে? এসময় ছাত্রীদের ছাত্রত্ব বাতিলে করার হুমকী দেন তদন্ত কমিটির প্রধান প্রভাষ কুমার।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাস কুমার মণ্ডল বলেন, এখনও তদন্ত প্রতিবেদন দেননি। কেন ২৫ দিনেও প্রতিবেদন দেয়া হলো না এ বিষয়ে তিনি বলেন, এর জবাব সাংবাদিকদের দিবেন না। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রীদের অভিযোগ আপনারা কিভাবে পেলেন। তিনি চটে গিয়ে বলেন, দুর্গন্ধওয়ালা ঘটনা নিয়ে আপনারা এতো ঘাটাঘাটি করবেন না। সাক্ষগ্রহনের নামে গেস্ট টিচার ও ছাত্রীদের হুমকী দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, এধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে জানতে সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আসাদুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর দেবাশিষ হালদার বলেন, এখনও তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি। তারা সময় নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি একজন শিক্ষক যেন শিক্ষক সুলভ আচারন করেন। প্রাথমিক তদন্তে তারা ছাত্রীদের অভিযোগ আমলে নিয়েই অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি ছাত্রীদের যদি হুমকী ধামকি দেয় তাহলে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
প্রসঙ্গত, সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান তালুকদার ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরনের লিখিত অভিযোগ করেন ছাত্রীরা। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে গত ২৯ মে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ওবায়দুর রহমান তাদের সঙ্গে বিশ্রী ভাষায় কুরুচিপূর্ণ আচারন করেছেন।
