অমানবিক, হেনস্তা: ”ওরা আ’লীগের কেউ নয় !”

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল নগরীর ভাটার খাল এলাকায় ছবি সম্বলিত ব্যানার সাটিয়ে পদধারী ৪ আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হয়েছে। নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগের জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলীর ব্যানারের নিচে সাটানো হয়েছে বিতর্কিত এ ব্যানার। যাতে ৪ আওয়ামীলীগ নেতার ছবিসহ লেখা হয়েছে “সতর্কীকরন, এরা আওয়ামীলীগের কেউ নয়”। তবে ব্যানারে যাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তারা আ’লীগের দীর্ঘ বছরের পদধারী ও দুঃসময়ের নেতা। এদের মত আরও ৩জনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানোও হচ্ছে। ঘটনার শিকার ওই নেতারা দাবী করেছেন, সামাজিকভাবে হেনস্তর পাশাপাশি ডেকে নিয়ে তাদের নাজেহালও করা হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ওই চারজন আওয়ামীলীগের ত্যাগী কর্মী। তার মধ্যে দুজন মুক্তিযোদ্ধা। ’৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের এক নেতাও আছেন এ চার জনের মধ্যে। ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগে নেতৃত্বের বিরোধের জেরে ব্যানারটি সাটিয়েছে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। আর এ ঘটনার প্রশ্রয় দিয়ে পোড় খাওয়া ওই নেতাদের সামাজিক ও দলীয়ভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
ছবিতে থাকা এ ৪জন হলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন খোকন, মহানগর হকার্স লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিক মেম্বর, ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক জিলানী চৌধুরী এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক আবুল হোসেন। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে ১০ নং ওয়ার্ড শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক শাজাহান চৌধুরী, সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন, যুবলীগ সভাপতি এরশাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
ব্যানারের চারজনের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল আহম্মেদ বলেন, ‘তারা দলের মধ্যে ভিন্ন মতাবলম্বী। সব সময় দলের ক্ষতি করে। দলের নির্দেশে ব্যানার সাটানো হয়েছে। শোকের মাসের পরে তারা বহিস্কারদেশের চিঠি পেয়ে যাবেন’। তবে পদে থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত নেতারা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে নিস্ক্রীয়তার অভিযোগ তুলে উল্লেখিত নেতারা নেতকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত সভা করতেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এরকম শস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন খোকন বলেন, ‘ওয়ার্ডের সাধারন নেতাকর্মীরা শোক দিবস পালনের জন্য আমার কাছে এসেছিল। এটাই আমার অপরাধ। বৃদ্ধ বয়সে দল থেকে যে পূরস্কার পেয়েছি তাতে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে ইচ্ছে করে’। তিনি বলেন, সামাজিক ও দলীয়ভাবেই কেবল হেনস্তা করা হয়নি বরং বাসায় তাদের ডেকে ১ ঘন্টার মত নাজেহাল করা হয়েছে। এমনকি তাদের আরও ৩ নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুৎসা রটানো হচ্ছে।
অপর মুক্তিযোদ্ধা ও হকার্স লীগের সভাপতি রফিক মেম্বর বলেন, ‘৭৫’ ট্রাজেডির পরের দুঃসময়ে দলের জন্য শ্রমিক রাজনীতি করেছি। শেষ বয়সে এসে এভাবে অপমান হতে হবে জানলে কোনদিন রাজনীতি করতাম না’। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জিলানী চৌধুরী বলেন, ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়েছে ১৯৯৮ সালে। তখন থেকে দলের এ পদে আছি। তিনটি নির্বাচনে ওয়ার্ডের কার্যক্রম চালিয়েছি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। তিনদিন আগে ব্যানার সাটিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে আমি না-কি আওয়ামীলীগের কেউ নয়’। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক আবুল হোসেন।
এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবীর প্রিন্সের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যানার দেখেনি। শুনেছি নগর আওয়ামীলীগের সুপ্রীম কমান্ড নেতার নির্দেশে ব্যানারটি লাগানো হয়েছে। তার নির্দেশ ছাড়া ব্যানার সরানো যাবেনা’।
দলের অভ্যন্তরীন বিরোধ এভাবে প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি জানতে চাইলে মহানগর আ’লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, তার এধরনের বিষয় জানা নেই। এটি সভাপতি কিংবা সাধারন সম্পাদক বলতে পারবেন। এব্যপারে মহানগর আ’লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে যদি সমস্যা করে থাকে তা ওয়ার্ড নেতারাই ভাল বলতে পারবেন। তাদের (নগর আ’লীগ) তো জানানো হয়নি। এধরনের কাউকে বহিস্কারও করা হয়নি। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *