নাগরিক রিপোর্ট ॥ বিভাগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার ২৯ বছর পর শ্রম আদালতের সুবিধা পাচ্ছে বৃহত্তর বরিশালের মানুষ। শ্রম আইনে দায়ের হওয়া মামলা নিস্পত্তিতে এখানে স্থাপিত হচ্ছে শ্রম আদালত। আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বরিশাল শ্রম আদালতের জন্য চেয়ারম্যান পদমর্যাদায় একজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন। সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, শিঘ্রই এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
শ্রম মন্ত্রাণালয়ের আওতাধীন কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বরিশালের উপ মহা পরিদর্শক (ডিআইজি) হিমন কুমার সাহা বরিশালে শ্রম আদালত স্থাপনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তার দপ্তরে প্রেরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন বরিশাল শ্রম আদালতের জন্য চেয়ারম্যান পদ মর্যাদায় একজন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যান্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিআইজি হিমন কুমার জানান, আদালতের পুরো বিষয়টি আইন মন্ত্রাণালয় দেখভাল করে। জনবল নিয়োগসহ অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করে কবে নাগাদ এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে তা পুরোটাই আইন মন্ত্রাণালয়ের এখতিয়ার। এ কর্মকর্তা ধারনা দেন, এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের কার্যক্রম শুরু করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
জানা গেছে, বরিশাল শ্রম আদালতের জন্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান হলেন জেলা ও দায়রা জজ পদধারী বেগম শাহনাজ সুলতানা। তিনি বাগেরহাট জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক ছিলেন। তাকে বরিশাল শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে গত ৮ মে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে আইন মন্ত্রাণালয়।
কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ডিআইজি হিমন কুমার সাহা জানান, বর্তমানে তার দপ্তর থেকে দায়ের হওয়া ৫০টি মামলা খুলনা শ্রম আদালতে বিচারধীন আছে। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান মামলাগুলোর নিস্পতি খুলনা শ্রম আদালতেই হবে। বরিশালে আদালত কার্যক্রম শুরুর পর নতুন মামলার নিস্পতি হবে এখানকার আদালতে।
বরিশালে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করেন এমন একাধিক নেতা জানিয়েছেন, শ্রম আদালত গঠন তাদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফসল। এটি কার্যকর হলে শ্রমিকদের আর বিচারের জন্য ঘুরতে হবে না। তবে তারা এ কার্যক্রম কেবল বিচারক নিয়োগে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত শ্রম আদালত চালু করার আহবান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত হয় ১৯৯১ সালে। কয়েক বছর আগেও বিভাগের শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিক ও ব্যবসায়ীদের শ্রম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সকল কাজের জন্য খুলনায় যেত হতো। সম্প্রতি বরিশালে স্থাপিত হয়েছে কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়। পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্র বন্দর পূর্নাঙ্গভাবে চালুর পর এ অঞ্চলে শিল্প কলকারখানা বৃদ্ধির সম্ভবনাকে গুরুত্ব দিয়ে এখানে শ্রম আদালত স্থাপন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।
২০১৯-০৯-০৩
