বরিশালে বিএনপির সরোয়ারের স্থাপনা সংস্কারে বিসিসির বাঁধা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বিএনপির কেন্দ্রীয যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার তার মালিকানাধীন জমিতে থাকা স্থাপনা সংস্কারে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিরুদ্ধে। নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গোলচত্বরের পাশেই এ জমির অবস্থান। সেখানে ২৪টি বানিজ্যিক স্টল রয়েছে সরোয়ারের। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দাবী করেছে, বাস টার্মিনালে গোলচত্বর সংলগ্ন তাদের অধিগ্রহনকৃত জমি প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে।
মজিবর রহমান সরোয়ার অভিযোগ করেছেন, আধাপাকা স্থাপনা সংস্কার করার জন্য তিনি রোববার শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলেন। বিসিসির একজন সড়ক পরিদর্শক গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জমির সীমানা নিয়ে বিসিসি এবং সওজের বিরোধ থাকায় তারা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার বিসিসির সাবেক মেয়র ও সদর আসনে ৫ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বাস টার্মিনাল গোলচত্বর সংলগ্ন ২৪ শতাংস জমি জনৈক নাসির আহম্মেদ মোল্লার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। সেখানে ২৪টি আধাপাকা ষ্টল আছে। প্রায় দেড়বছর আগে ৬ তলা ভবন নির্মানের অনুমোদন চেয়ে বিসিসিতে আবেদন করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দেন। এখন পর্যন্ত প্লান অনুমোদিত হয়নি।
সরোয়ার বলেন, ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের সুবির্ধাতে তিনি ঘরগুলো সংস্কারের জন্য রোববার মিস্ত্রী নিয়োগ করলে বিবিসির কর্মচারীরা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন সরেজমিনে যান। কাজ বন্ধ করে দেয়ার যৌক্তিক কোন কারন বিসিসি কর্তৃপক্ষ জানাননি বলে সরোয়ার বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার জমির পাশে আরও অনেক স্থাপনা বিসিসির অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হয়েছে। সেগুলোতে বাঁধা না দিয়ে তার প্লান আটকে রেখে সংস্কার কাজে বাঁধা দেয়া উদ্দেশ্যেমূলক।
এ প্রসঙ্গে বিসিসির সিইও মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘মজিবর রহমান সরোয়ার যেখানে জমির মালিকানা দাবী করেন সেখানে বিসিসি এবং সওজেরও জমি আছে। কে কার জমিতে অনুপ্রবেশ করেছে সেটা দেখার জন্য সরেজমিনে গিয়েছিলাম। এখন কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’। সরোয়ারের ৬ তলা ভবনের প্লান অনুমোদন আবেদনের বিষয়ে সিইও বলেন, কাগজপত্র দেখে জমির মালিকানা নিশ্চিতের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের গোলচত্বর সংলগ্ন ১২৫৬ নম্বর দাগের জমি ১৯৫৩ সালে সওজ অধিগ্রহন করে। পরবর্তীতে সওজের নামে রেকর্ড করা হয়নি। এ সুযোগে আগের রেকর্ড সুত্রে তৎকালীন মালিকরা জমি বিক্রি করেছেন প্রভাবশালীদের কাছে। তারা আধাপাকা বানিজ্যিক ভবন নির্মান করে ভোগদখল করলেও বিসিসি থেকে প্লান দেয়া হয়নি। বিরোধীয় জমিতে বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সাধারন সম্পাদক ঈমান আলী শরীফের মার্কেট আছে।
বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ১২৫৬ নম্বর দাগের জমিতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। এজন্য তাদের সার্ভে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *