নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল নগরীতে ব্যাটারীচালিত রিকশা ও অটো রিক্সা (হলুদ ইজিবাইক) বন্ধের ঘোষণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ঘন্টাধিককাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাস ভবনের সম্মুখে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেছেন মালিক ও শ্রমিকরা। এসময় তারা এমন আতœঘাতি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবী জানান। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৈঠক ডেকে সমাধানের আশ^াস দেয়া হলে ক্ষুব্ধ কয়েক হাজার অটো রিক্সা মালিক-শ্রমিক মেয়রের বাসভবন ত্যাগ করেন। বুধবার মেট্রোপলিটন পুলিশ ১ অক্টোবর থেকে এসব যান বন্ধের ঘোষনা দিয়েছে।
জানা গেছে, নগরীতে যানজট নিরসনের কারন দেখিয়ে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধান প্রধান বেশ কয়েকটি রুটে অটো রিক্সা চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অটো রিক্সা মালিক ও শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাসভবনের সামনে অবস্থান করে। ক্ষুব্ধ মালিক ও চালকরা অভিযোগ করেন, তাদের অনেকেই ঋণ নিয়ে গাড়ি ক্রয় করেছেন। এ দিয়ে তাদের সংসার চলে। বৃদ্ধ মা-বাবার ভরনপোষণ ও সন্তানদের পড়াশুনাও এর উপর নির্ভর করে চলছে। এভাবে আকস্মিক তাদের যান চলাচল বন্ধ করে দিলে না খেয়ে মরতে হবে। বেকার হবে হাজার হাজার শ্রমিক। বাড়বে নগরীতে অপরাধ।
অটোরিক্সা মালিক ও চালকরা বলেন, প্রশাসন জনসাধারনের দূর্ভোগ লাগবের যে অজুহাতে অটো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানদের নিয়ে পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকায় চলাচল করতে পারছে। এসব গাড়ি চলাচল বন্ধ হলে নগরবাসী দূর্ভোগ কি তখন তারা অনুভব পারবে। এ অবস্থায় পুলিশের এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য চালকরা মেয়র এর হস্তক্ষেপ দাবী করেন। এক পর্যায়ে কোতয়ালী থানার ওসি নুুরুল ইসলাম এসে তাদের আশ^াস প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিবাদের মুখে জরুরি বৈঠক করে সিটি মেয়র পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নগরীতে প্রায় ৭ হাজার হলুদ অটোরিক্সা চলাচল করছে। ব্যাটারীচালিত রিকশাও রয়েছে কয়েক হাজার। মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এসব যান বন্ধ ঘোষনার একটি সংবাদ বৃহস্পতিবার আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশিত হলে তোলপাড় ঘটে নগরীতে।
২০১৯-০৯-২৬
