সৈয়দ জুয়েল ॥ সেই ভেংচি, সেই হাসি আর নেই গলওয়ের সাবেক রেস্টুরেন্ট ব্যাবসায়ীদের। একজন বাদে আর কারোর মালিকানাও নেই। কেউ কেউ আবার ধর্মের দিকে আকৃস্ট হয়ে লোক দেখানো শুধরানোর চেস্টা করছেন। আবার কেউ মদ বিক্রি, আর কর্মচারী ঠকানোর হারাম পয়সায় হালাল ব্যাবসা দিয়ে সাধু সেজে বসে আছেন, অনেকটা বাংলাদেশে কালো টাকা সাদা করার মত।
ফ্লাশব্যাক ২০০৫: আয়ারল্যান্ডের গলওয়েতে দুটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট ছিল যার প্রতি সপ্তায় গড় আয় ছিল ১৫০০০ থেকে ২০০০০ হাজার ইউরো। যা বাংলাদেশী টাকায় ১৪ লক্ষ থেকে ১৯ লক্ষ টাকার মত, মাসে প্রায় কোটি টাকার মত। আর সরকারকে দেখাত তাদের ব্যাবসা মন্দা, তিন থেকে চার হাজার ইউরো তাদের বিক্রি। প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশী টাকায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা কর ফাঁকি দিয়ে সরাসরি পকেটে। আর কর্মচারীর হিসেবটা আরো জটিল!
তাদের আইরিশ আইনে বেতন দেয়ার কথা ছিল- প্রতি সপ্তাহে ৪০০ ইউরো। তারা দিত ১০০ থেকে ১৪০ ইউরো। প্রতি সপ্তাহে একেকজন কর্মচারী ঠকিয়ে মাসে একলক্ষ টাকা পকেটে। নূন্যতম তখনকার সময়ে এ দুটি রেস্টুরেন্টে ১০জন করে কাজ করছিলো। প্রতি বছরে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিত এ রেস্টুরেন্টের মালিকরা। যেহেতু এ দেশে অতিরিক্ত টাকা ব্যাংকে রাখলে সরকারকে কর দিতে হবে,তাই তারা নামে বেনামে দেশে টাকা পাঠাত। এমনকি একেক মাসে একেক কর্মচারীর নামেও টাকা পাঠাত। আর সে টাকা দিয়েই উত্তরায় একাধিক বাড়ী বানিয়েছেন, বসুন্ধরায় ব্যাবসা, যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যাবসা, ফ্লাট ব্যাবসা।সগতকাল এক বাঙ্গালী এদের কার্যকলাপে বলেন-ওরা মনে হয় জি,কে শামীমের বংশধর।
এত টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও তাদের ক্ষুধা মিটতোনা। টিপসের টাকার দিকেও লোলুপ দৃস্টি দিত। সাধারনত: প্রত্যেকে রেস্টুরেন্টেই কাস্টমাররা খাওয়া শেষে টিপস্ দিয়ে থাকেন, এ টিপসের দাবীদার কর্মচারীরাই। কিন্তু এখানেও তারা সমান ভাগ নিতে দ্বিধাবোধ করতো না।
২০১৯-০৯-২৮
