নাগরিক রিপোর্ট : মুলাদী উপজেলা পৌর শহরের প্রধান বন্দরে বুধবার বিকাল থেকে সন্ধার পর কয়েকদফায় দু’দলের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। এসময় ভাংচুর করা হয় বন্দরের সর্বাধিক পরিচিত মিষ্টির দোকান ‘মনিকা মিষ্টান্ন ভান্ডার। হামলার কারন নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন। দুপক্ষের ধারালো অস্ত্রের মহড়ায় বন্দরে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উভয়পক্ষ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিস্ট। তবে বিরোধের সুত্রপাত হয় ব্যক্তিগত প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে।
মনিকা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক আঃ মজিদ রাঢ়ি জানান, পাশ্ববর্তী এলাকার গনি হাওলাদারের ছেলে বাপ্পী হাওলাদার তার দোকান থেকে বিভিন্ন সময় বাকীতে মিষ্টি ও নাস্তা নিলে তার কাছে প্রায় দেড় হাজার টাকা পাওনা হয়। বুধবার বিকালে বাপ্পী তার বন্ধুদের নিয়ে নাস্তা করে টাকা না দিয়ে বের হতে চাইলে দোকান মালিকের ছেলে আসাদুল হক আসাদ বাঁধা দেয় এবং পূর্বের টাকাও দাবী করে। এনিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
এর জের ধরে বাপ্পী ও মিজান হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মনিকা মিষ্টান্ন ভা-ারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় বন্দরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা আসাদসহ দোকানের কর্মচারী মোঃ সেলিম, নূরুল ইসলাম, জানে আলম, রাজ্জাক, ইব্রাহীম, মিজান সিকদার, ইলিয়াস ফকিরকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। অপরদিকে বাপ্পী হাওলাদার দাবী করেন, মজিদ রাঢ়ী মুলাদী বাঁধের উপর সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ করছে। ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করায় মজিদ রাঢ়ীর লোকজন হামলা করলে তিনিসহ ২ জন আহত হন। মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল আহসান জানান, দোকানে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে।##
২০১৯-১০-৩০
