নাগরিক রিপোর্ট ॥ পিয়াজের ঝাঁজের পাশাপাশি গত ক’দিন ধরে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে চালের দাম। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির দৌড়ে এবার যুক্ত হলো এলপি গ্যাস। রান্নার কাজে নিত্যব্যবহার্য্য এ পণ্যটির দাম বেড়েছে সিলিন্ডার প্রতি ১২০ টাকা। দেশে এলপিজি বাজারজাতকারী সকল কোম্পানীগুলো সিন্ডিকেট করে শনিবার থেকে একযোগে সারাদেশে বর্ধিত মূল্য কার্যকর করেছে। এর ফলে বরিশালের সাধারন মানুষের সাংসারিক ব্যায়ের পরিমান আরেক দফা বাড়ল। যদিও আকস্মিক দাম বৃদ্ধির কোন যৌক্তিক কারন দেখাতে পারেনি এলপি গ্যাস ডিলাররা।
মূল্যবৃদ্ধিকে পুজি করে বৃহস্পতিবার থেকেই বরিশালের বাজারে এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। কোম্পানীগুলোর স্থানীয় পরিবেশকরা বৃহস্পতিবার থেকে খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন। মজুদ থাকা সিলিন্ডার পরিবেশকরা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করার জন্য কৌশলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ।
এলপিজি কোম্পানীগুলোর বরিশালের একাধিক পরিবেশকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার থেকে প্রতিটি সিলিন্ডারের পাইকারী দাম ৯৭০ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতদের এ দামে কিনতে হবে পরিবেশকদের কাছ থেকে। খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবেন আরও ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশী দামে। অর্থাৎ শনিবার থেকে ভোক্তাকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হবে ১০০০ থেকে ১০২০ টাকায়। পরিবেশকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এলপিজি সিল্ডিারের পাইকারী মূল্য ছিল ৮৫০ টাকার মধ্যে। যা নগরীর খুচরা বাজারে বিক্রি হতো ৯০০ থেকে ৯২০ টাকার মধ্যে। এদিকে নগরীর বিভিন্ন খুচরা দোকানে খোজ নিয়ে জানা গেছে, হোম ডেলিভেরির নামে সিলিন্ডার প্রতি আরও ৩০ থেকে ৪০ টাকা নেয়া হয় সাধারন ক্রেতাদের কাছ থেকে।
এলপিজি কোম্পানী লাফার্স’র এর বরিশাল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. খালেদ জানান, ‘শনিবার থেকে সব কোম্পানীর প্রতিটি সিলিন্ডারের পাইকারী মূল্য ৯৭০ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। সারাদেশে এ মূল্যে বিক্রি হবে’। এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানীগুলো যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে এ কর্মকর্তা জানান। পূর্বের চেয়ে ১২০ টাকা বেশী টাকা বৃদ্ধির সঠিক কোন কারন জানাতে না পারলেও গৎবাঁধা উত্তরে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে’।
অরিয়ন কোম্পাানীর বরিশালের পরিবেশক তরিকুল ইসলাম বলেন, শীতে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিবছর শীতের শুরুতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে কোম্পানীগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও দাম বেড়েছে বলে এ ব্যবসায়ীর দাবী। তিনি বলেন, প্রতিটি কোম্পানী তাদের স্থানীয় পরিবেশকদের গত সপ্তাহেই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে নগরীর গোঁড়াচাঁদ দাস রোডে খুচরা বিক্রেতা চৌধুরী ট্রেডার্সের স্বত্বাধীকারী জহিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় পরিবেশকরা তাদেরকে গ্যাস সরবরাহ করছেন না। বেশীরভাগ পরিবেশকের মোবাইল নম্বর বন্ধ ছিল। অনেকে ফোন ধরলেও সিলিন্ডার সরবরাহ না করার জন্য নানান অজুহাত দেখিয়েছেন। শনিবার থেকে তারা বর্ধিত মূল্য ৯৭০ টাকা দরে সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করেছেন। এ ব্যবসায়ী জানান, কোম্পানীগুলোর একটি প্যাকেজ মূল্য ছিল গ্যাসসহ একটি সিলিন্ডারের মূল্য ১৪০০ টাকা। বৃহস্পতিবার থেকে এ প্যাকেজ মুল্যের সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন পরিবেশকরা।
নগরীর নিউ সার্কূলার রোডের খুচরা বিক্রেতা রাজ্জাক ষ্টোর্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক একই অভিযোগ করে জানান, শনিবার থেকে তাদেরকে বেশী দামে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। কেন বাড়লো এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ডিলারদের খামখেয়ালী।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের বাজারে কমপক্ষে ১০টি কোম্পানী এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করছে। সেগুলো হচ্ছে, যমুনা, বসুন্ধরা, ক্লীনহিট, টোটাল, অরিয়ন, পেট্রোম্যাক্স, লাফার্স, জি-গ্যাস, ডেলটা, নাভানা ইত্যাদি।
২০১৯-১১-১৭
