নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশালে ইয়াবা দিয়ে দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনার শিকার জেএসসি পরীক্ষার্র্থী মইন খন্দকার (১৪) পায়ের ব্যাথায় কারাগারে কাতরাচ্ছে। তার দুই পা ফুলে গেছে। ভর করে হাটতে পারে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের পর তাকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দর থানার এসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে। মইনকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা তা এখনও তদন্ত করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ(বিএমপি)। তবে এরই মধ্যে ১৪ বছরের উঠতি এ কিশোরের অনেক দাগী অপরাধীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে একসঙ্গে বসবাসের দুই দিনের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। এদিকে জেএসসি পরীক্ষার্থী মঈনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর খবর দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ রোববার প্রকাশিত হওয়ায় তোলপাড় ঘটে বরিশালে।
রোববার কারাগারে মইনের সঙ্গে দেখা করার পর মা শাহিনুর বেগম ও বাবা সাইদুল হক হিরন কান্নজাড়িত কন্ঠে ছেলেকে অমানুষিক পুলিশী নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ছেলের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন, তার হাত বেঁধে কোমরের নিচের অংশে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে।
একই অভিযোগ করেন মইনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলার দুই নম্বর স্বাক্ষী আশ্রাফুল আলম মিলন সিকদার। তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের পর তিনি মইনকে দেখতে বিমানবন্দর থানায় গিয়েছিলেন। তখন মইন তাকে পা দুটো ধরে দেখার আকুতি জানায়। মিলন সিকদার বলেন, ‘ওর ফুলা পায়ের ওপর হাত দিয়ে আমার চোঁখে পানি এসে যায়’। তিনি বলেন, মইনের কাছ থেকে না-কি ইয়াবা পাওয়া গেছে। অথচ তিনি এমনটা দেখননি।
নিরীহ কিশোরকে কথিত ইয়াবা উদ্ধারের নামে গ্রেফতার ও থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠী এলাকাবাসী এসআই এনামুল হকের শাস্তি দাবী করেছেন।
পশ্চিম ইছাকাঠীতে রোববার সরেজমিনে গেলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিলন সিকদার (৪০), হাফেজ বেপারী (৩০, কোহিনুর বেগম (৫০), দুলাল সিকদার (৬০) সহ কমপক্ষে অর্ধশত নারী-পুরুষ বলেন, ‘মসজিদের পাশে রাখা গাছের ওপর মইন মোবাইল নিয়ে কি যেন করছিল। মাগরিবের নামাজের পর দুই জন সাদা পোশাকধারী এসে মইনকে জাপটে ধরে মারধর করতে থাকে। তারা এগিয়ে গেলে ওই দুইজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, তার (মইন) কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উপস্থিত লোকজন ইয়াবা দেখতে চাইলে তারা দেখাতে পারেনি’।
মইনের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ছেলের চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে ছুটে আসার পর পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে এসআই এনামুল বলেন, ‘তোরে লাথি মাইরা দশ হাত দুরে ফালামু’। তার সামনেই মইনকে একাধিকবার চরথাপ্পর দিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা।
দিয়াপাড়া ইউনাইটেড মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা চৌধুরী ডলি বলেন, মইন তার স্কুল থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। নিরীহ এ ছেলেটিকে আটক করে মিথ্যা মামলা দেয়ায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করা হবে।
এদিকে ২৯ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদ, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মাষ্টার জসিম উদ্দিন শনিবার বিএমপি’র উপ কমিশনার (উত্তর) মোকতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করে মইনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়ে নালিশ দিয়েছেন। উপ কমিশনার মোকতার হোসেন শনিবার রাতে বলেন, একজন সহকারী কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জেএসসি পরীক্ষার্থী মইনের বাবা সাইদুল হক হিরণ বলেন, শনিবার রাতে পুলিশ কার্যালয়ে ডেকে তার বক্তব্য নেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে বিমানবন্দর থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন। ওসি এসএম জাহিদ উদ্দিন আলম বলেন, মইনকে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
২০১৯-১১-১৭
