নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশালের হিজলা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন। দলটির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে যে, অনিবার্য কারনে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় আ’লীগ নেতারা জানিয়েছেন, সম্মেলনে প্রভাব বিস্তার, পকেট কমিটি গঠনের পায়তারা এবং অর্থ ছড়ানোর অভিযোগে সম্মেলন স্থগিত করা হয়। প্রসঙ্গত, সোমবার আলোকিত বাংলাদেশে “আ’লীগের সম্মেলন ঘিরে অস্থির বরিশাল তৃনমুল” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলে তোলপাড় ঘটে।
গত ক’দিন ধরে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। নানা অভিযোগ উঠে আসে কোন কোন নেতার বিরুদ্ধে। যেকারনে আগেই উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়। মঙ্গলবার বাবুগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। এর পরদিন বুধবার সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল হিজলায়। কিন্তু সম্মেলনের আগ মুহুর্তে নানা অভিযোগ উঠে আসে এ দুই উপজেলায় আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি কাজী এমদাদুল হক দুলাল বলেন, দলের সাধারন সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপন কোন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সম্মেলন করতে দেয়নি। তিনি পূর্বের কমিটির নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। স্বপন নিষিদ্ধঘোষিত সর্বহারা পার্টির নেতা ছিলেন এক সময়ে। যেকারনে সম্মেলনের আগ মুহর্তে এলাকায় ক্যাডারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এসব বিষয় জেলা আ’লীগকে অবহিত করায় হয়তোবা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে হিজলায় রোববার বিকেলে সম্মেলন বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা এ উপজেলার সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপুকে দায়ী করেন। হিজলা উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, সভাপতি টিপু ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের পকেট কমিটি করেছে। তার পদ বানিজ্যের স্বভাব আছে। যেকারনে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
এসব প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, তারা অনিবার্য কারনে সোমবার ২টি উপজেলার সম্মেলন স্থগিত করেছেন। এর আগে বানারীপাড়া ও উজিরপুরের সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে। তবে সুনির্দিস্ট অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখা হবে।
২০১৯-১১-২৫
