নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল নগরীর গৃহকর নির্ধারনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বর্ধিত ভবনের কর নিয়ে চরম অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারই করপোরেশনের চীফ এসেসর বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার নগরভবনে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় এধরনের অনিয়মের জন্য করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) ইসরাইল হোসেনকে দায়ী করেছেন কাউন্সিলররা। পানির বিল নির্ধারন ও ভবনের প্লান তৈরির ক্ষেত্রেও নগরবাসী হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে মেয়রকে অবহিত করেন কাউন্সিলররা। এসময় কাউন্সিলরদের প্রশ্নবানে তোপের মুখে পরেন সিইও। সভায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ কাউন্সিলরদের এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে জনদুর্ভোগ রোধে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন।
নগরীর গৃহকর নির্ধারন নিয়ে গত কিছুদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ এক সংবাদ সম্মেলনে বাড়তি গৃহকর নিধারনের অভিযোগ তোলে। কিন্তু নগরভবন থেকে বিষয়টি স্বীকার না করলেও ধীরে ধীরে নগরীর সাধারন মানুষের কাছ থেকে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। সম্প্রতি বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সভায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গৃহকর নির্ধারনে অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে এজন্য একটি মহলকে দায়ী করেন। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল সিটিকরপোরেশনের(বিসিসি) মাসিক সভায় এ বিষয়টি উঠে আসায় তা প্রকাশ্য রুপ নিল। ওই সভায় অধিকাংশ কাউন্সিলর নতুন বর্ধিত ভবনের গৃহকর নির্ধারন, পানিল সংযোগ বিল নির্ধারন ও ভবনের প্লানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতির নানা বিষয় তুলে ধরেন। তারা এজন্য করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেনকে দায়ী করেন। ফলে অনেকটা তোপের মুখে পড়েন সিইও।
জানতে চাইলে নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম সাইদুর রহমান জাকির বলেন, মাসিক সভায় বর্ধিত হোল্ডিং এর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। করপোরেশনের পক্ষ থেকে ২৬শ নতুন করে বর্ধিত হোল্ডিং নির্ধারন করা হয়। মেয়র যৌক্তিভাবে কর নির্ধারনের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবনের প্লানের ক্ষেত্রে রোড ক্রোসিং এ টাকা নেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। মেয়র সভাকে অবহিত করেছেন যে তিনি এমনটা চান না। পানির বিল প্রসঙ্গে কথা উঠলে মেয়র সভাকে জানান, সব জায়গায় এখনও পানি পৌছানো যায়নি। পৌছানোর পর গ্রাহকের দরজা পর্যন্ত পানির বিল নির্ধারন করতে হবে। নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান ছাবিদ বলেন, গৃহকর নির্ধারনে কিছু কিছু অসঙ্গতি হয়েছিল। কাউন্সিলররা সভায় এ বিষয়ে মেয়র এর দৃস্টি আকর্ষন করেন। মেয়র আমলে নিয়ে জনভোগান্তি না হয় সে বিষয়ে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, গৃহকর নির্ধারনের বিষয়ে মেয়র খুবই সতর্ক। ইতোমধ্যে চীফ এসেসরকে সরিয়েও দিয়েছেন। বিসিসির অপর এক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসিক সভার পুরোটা জুড়েই অভিযোগের তীর সিইও এর উপরেই ছিল।
এ প্রসঙ্গে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইসরাইল হোসন বলেন, গৃহকর নির্ধারনে অনিয়ম ধরা পড়ায় বৃহস্পতিবার চীফ এসেসর আ. ন. ম মোশফেক আহসান আজমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাসিক সভায় গৃহকরসহ যেসব ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।
সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহকর নির্ধারন কিংবা আদায় এই মুহর্তে স্থগিত রাখা হয়েছে। কর নির্ধারনে জটিলতা হওয়ায় কাউন্সিলররা করপোরেশনের সিইওকে উল্লেখ করে মেয়র মহোদয়কে অবহিত করেছেন। এছাড়া পানির বিল নেয়ার বিষয়ে যেসব স্থানে সংযোগ যায়নি সেসব স্থানে পানির বিল না ধরার কথা বলেছেন। মেয়র এসব বিষয় আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। নগরীর হাসপাতাল রোডে শহীদ আলতাফ মাহমুদ সঙ্গিত বিদ্যালয় বেহাত হওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিষয়টি মেয়র এর নলেজে দেয়া হয়েছে। এটি যাতে বেদখল না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
এব্যপারে বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু বলেন, গৃহকর নির্ধারনে নানা অনিয়মের অভিযোগে মেয়র বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ইতোমধ্যে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে অভিযোগ এসেছে। যেকারনে চীফ এসেসর আ. ন. ম মোশফেক আহসান আজমকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
২০১৯-১১-৩০
