সৈয়দ জুয়েল: ১৯৭১ সালের ১৭ ই এপ্রিল আকাশ পথে হামলার মধ্যে দিয়ে বরিশাল আক্রমন শুরু করে ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক হত্যাযজ্ঞের কুশীলব পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা। এরপর জল ও স্থল পথে আক্রমন করে বরিশালের পুরো নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় নরপশুরা। শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসটি ছিল মূলত তাদের প্রধান কার্যালয়, যা টর্চার সেল খ্যাত। নারী, পুরুষদের অমানবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে কীর্তনখোলা নদীতে ফেলে দিত এ বর্বররা। আজও সে সময়ের হত্যার স্বীকারের শহীদ পরিবারের সদস্যরা কীর্তনখোলা নদীর তীরে বসে কীর্তনখোলার দিকে তাকিয়ে কল্পনায় সে সময়ের রক্তের স্রোতের কথা ভেবে নীরবে চোখের জল ফেলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে কীর্তনখোলায় রক্ত¯্রােতের বিপরীতে আজ জোয়ার ভাটার খেলা।
২৬ মার্চ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে নুরূল ইসলাম মন্জুরকে বেসামরিক প্রধান ও নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার এম,এ,জলিলকে সামরিক প্রধান করে আওয়ামিলীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে গঠন হয় অস্থায়ী সচিবালয়। এখান থেকেই সরবরাহ করা হত অস্ত্র ও অর্থ। বড় বড় বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে বরিশালের বীর সন্তানরা পিছু হটাতে বাধ্য করেছিলো পাক সেনাদের।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই মুক্তিযোদ্ধাদের জোড়ালো আক্রমনে প্রায় অসহায় হয়ে পিছু হটতে থাকে হানাদাররা। অবশেষে ১৯৭১ সালের ৮ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনারা গানবোট, লঞ্চ, স্টীমারে গোপনে বরিশাল থেকে পালিয়ে যায়। ওদের পালিয়ে যাওয়ার খবরে অদূরে অবস্থান আব্দুল মান্নান ও সুলতান মাস্টারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল পুরো শহরের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। মুক্ত হয় বরিশাল, সব জায়গা ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা। রোববারের কর্মসুচী: জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, বরিশাল মুক্ত দিবস পালনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে সংগঠন কার্যালয়ে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তিযোদ্ধারাা বয়স্ক হওয়ায় র্যালী কর্মসূচী বাতিল করা হয়েছে বলে জানান এনায়েত হোসেন চৌধুরী। উদীচির জেলা সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন জানান, উদীচীর উদ্যোগে বিকেল ৫টায় বিজয় বিহঙ্গ চত্বরে মোমবাতি প্রজ্বলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
২০১৯-১২-০৭
