এরশাদের বাল্যবন্ধু খেরু মিয়া মারা গেছেন

Spread the love

নাগরিক ডেক্স : প্রয়াত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বন্ধু মো. আজিজার রহমান খেরু মিয়া না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিলো ৯০ বছর। তিনি ৯ ছেলে ৬ মেয়েসহ নাতি-নাতনি ও অনেক শুভাকাক্ষী রেখে যান।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপেজেলার রমনীগঞ্জ গ্রামের তার নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন তিনি।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় উপজেলার রমনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

খেরু মিয়া লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বড়খাতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার সাথে কাটনো কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করছিলেন বন্ধু আজিজার রহমান খেরু মিয়া।

সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এরশাদ ১৯৪৬ সালে ভারতের দিনহাটা থেকে এসেছিলো। রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পরই এরশাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিলো। এরশাদ মেট্রিক থার্ড ডিভিশনে (এসএসসি) পাস করার পর তার মাঝে জেদ প্রচণ্ড কাজ করতো। সে ভালো করে লেখাপড়া শুরু করে এবং ইন্টারমেডিয়েট ফাস্ট ডিভিশনে (এইচএসসি) পাস করেছিলো। কলেজে পড়া অবস্থায় তার সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ দুর্বলতা কাজ করতো। ফুটবল খেলতে খুব পছন্দ করতো আর ভালো ফুটবল খেলত সে কারণে তাকে অনেকেই রংপুর টাউন ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলার জন্য খেলোয়াড় হিসেবে ভাড়া করে নিয়ে যেতো।

তিনি আরও বলেছিলেন, এরশাদ কলেজ জীবনে মাছ ধরতে খুব পছন্দ করতো। এরশাদসহ তিনি প্রায়দিন রংপুরের দর্শনা বিলে মাছ ধরে কলেজ হোস্টেলে সবাই রান্না করে খেতো। এরশাদের মাঝে প্রচণ্ড মানবতা কাজ করত। তার মাঝে কোনো লোভ-লালসা বা বাজে নেশা ছিল না। সিগারেট তো দূরের কথা পান পর্যন্ত খেতে না এরশাদ। সে মাছ ধরে নিজের হাতে রান্না করে কলেজ হোস্টেলে সবাইকে খাওয়াত। বাজার করতে প্রায় সময় নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করত এরশাদ।

খেরু মিয়া বলেছিলেন, তার মৃত্যুর এক বছর আগে তিনি অসুস্থ হওয়ায় রংপুরে গিয়ে এরশাদের সাথে দেখা করে শেষ বিদায় নিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বিদায়ের আগে এরশাদ চলে যাবে এটা ভাবেননি তখন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *