সেই শিশু ছাত্রীর কন্য সন্তান জন্ম

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে শনিবার এক শিশু ছাত্রী(১২) কন্যা সন্তান প্রসব করেছে। নবজাতকের মা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুই লম্পটের লালসার শিকার হয়েছে ওই ছাত্রী। শেবাচিম হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছাত্রীটি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছে।
ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছে, তার স্কুল বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বাবুল হোসেন এবং একই বাড়ির চাচা সম্পর্কের জুয়েলের ধারাবাহিক লালসার শিকার। এ দুই জনের যেকোন একজন নবজাতক সন্তানের বাবা। ধর্ষন মামলায় জুয়েল এখন কারাগারে রয়েছে।
জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের ভোজমহল গ্রামের একটি হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান এই ছাত্রী। ‘ভোলা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব’ নামক এর সদস্য কলেজছাত্র সুজন জানান, গর্ভবতি শিশু ছাত্রীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে এসে বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর থেকে তিনি সার্বক্ষনিক হাসপাতালে অবস্থান করে তার চিকিৎসার দেখভাল করছেন। ছাত্রীটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ৫০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান ও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, নবজাতকের ওজন আড়াই কেজির কম। তার শ্বাসকষ্ট থাকায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মা সুস্থ আছে।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বিদ্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় লাইব্রেরী কক্ষে নিয়ে তাকে ধর্ষন করেছে। এরপরে প্রায়ই সহকারী শিক্ষিকা রেবা তাকে লাইব্রেরীতে ডেকে নেয়ার পর প্রধান শিক্ষক ধর্ষন করতো। রেবা লাইব্রেরীর বাইরে পাহাড়ায় থাকতো। পরবর্তী একই বাড়ির চাচা সম্পর্কীয় জুয়েলও বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে বাড়িতে একাধিবকার ধর্ষন করেছে। গর্ভের চারমাসের সময় শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে মায়ের চাপের মুখে তার কাছে সবকিছু খুলে বলে। তখন প্রধান শিক্ষকের চাপের মুখে শুধুমাত্র জুয়েলকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে শিশুটির মা।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, শুধুমাত্র জুয়েলকে আসামী করে মামলা করায় তাকে গ্রেফতার করা হলে সে কারাগারে রয়েছে। তখন শুধুমাত্র জুয়েলের বিরুদ্ধে জবানবন্দী দেয় ছাত্রীটি। মামলার চার্জসীটও দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *