নাগরিক রিপোর্ট ॥ মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য আবেদনকারী বরিশালের ৪২ মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কিংবা ভাতা প্রত্যাশীর তথ্য নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ওই ৪২জন মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যদের অথবা প্রত্যাশীদের নাম গেজেট আকারেও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে পোষ্যদের কিংবা প্রত্যাশীদের নাম, ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্যে ত্রুটিবিচ্যুতি ধরা পড়ে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রোববার বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়ার রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিস্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার আওতায় আসা ৪২জন পোষ্য ও প্রত্যাশীর ভাতা প্রদানের তালিকা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এর সাথে জড়িতদের শোকজ করারও নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক বৈঠকে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকলেছুর রহমানকে বৎস্যনা করেছেন।
ওই সভায় উপস্থিত থাকা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতে ৪২জন পোষ্য কিংবা প্রত্যাশীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। যাচাই বাছাইকালে দেখা গেছে, রহিমের স্থানে করিম হয়েছে। জেলা প্রশাসক রোববার বৈঠকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকলেছুর রহমান বলেন, তালিকাভুক্ত ৪২জন মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যদের কিংবা ভাতা প্রত্যাশীদের ভাতা পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাদের নাম, ঠিকান ভুল ছিল। এরা বরিশাল নগরীসহ জেলার ১০টি উপজেলার। রোববারের বৈঠকে জেলা প্রশাসক তাকে আগৈলঝাড়া, মেহেন্দীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের বেশ কয়েকজনের তথ্যে কেন অসংগতি হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন। জেলা প্রশাসক ওই ৪২জন প্রত্যাশীকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদান স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এর সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থগিত হওয়া ওই ৪২জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদের মধ্যে অনেকে আছেন নতুন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রত্যাশী। আবার কোন কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ায় তার স্বজনরা পোষ্য হিসেবে ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন। এদের তথ্যে গড়মিল রয়েছে। এমন ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য দায়ী কারা এ প্রসঙ্গে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বরাদ্ধ কমিটি’ এই তালিকা করে। সে হিসেবে তিনিও ওই কমিটিতে আছেন।
বরিশাল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আল মামুন বলেন, ৪২জনের তথ্যে ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দিয়েছে। গেজেটের সাথে তাদের নাম-ঠিকানা ভুল ছিল। এর সাথে জড়িতদের শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনে রোববার আলোচনা হলেও অফিসিয়ালি তিনি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর বরাত দিয়ে জানান, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার জন্য যেসব পোষ্যদের কিংবা ভাতা প্রত্যাশীদের নামের বিপরীতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে তা যাচাইবাছাই চলছে। এখনও চুড়ান্ত হয়নি। এটি তদন্তের বিষয়। জেলা প্রশাসক কর্তৃক মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বৎস্যনা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে এমন ঘটনা কেন হল তা জানতে চেয়েছেন মাত্র।
এব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিয়ে কোন জটিলতা হয়নি। এটি রুটিন ওয়ার্ক। তারা নিয়মিত এধরনের সভা করে থাকেন।
২০১৯-১২-৩০
