নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ও মাসকাটা নদীর একাংশে বাধ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। গত সপ্তাহ থেকে উপজেলার আলীমাবাদ ইউনিয়নের চরমিঠুয়া গ্রামের ওই দুই নদীর মাঝে ভুতের খাল নামক স্থানের প্রায় ২ হাজার ফুট এলাকা জুড়ে বাধ দেয়া হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পার্শবর্তী চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা সামছুল বারী মনির এর নেতৃত্বে এ বাধ দেয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় সাংসদ পংকজ নাথেরও সম্মতি নেয়া হয়েছে। কারন হিসেবে জানা গেছে, নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ওই অংশ ভরাট করে বিশাল চর দখল করার পায়তারা করছেন চেয়ারম্যান মনির। এমনকি সেখানে মাছের ঘের করারও পরিকল্পনা নিয়েছে তাদের।
জানা গেছে, গত সোমবার থেকে মেহেন্দিগঞ্জের আলীমাবাদ ইউনিয়নের চরমিঠুয়া গ্রাম সংলগ্ন তেতুলিয়া ও মাসকাটা নদীর একাংশে গাছ ও বাঁশ ফেলে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। পার্শবর্তী ইউনিয়ন চরগোপালপুর এর বাসিন্দা শামীম তালুকদার বলেন, বাধ দিয়ে তাদের ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন রক্ষা করা হবে। এটি তেতুলিয়া নদীর একাংশ। বর্তমানে চর পড়ে যাওয়ায় একে ভুতের খাল বলা হয়। স্থানীয় এমপি, ইউপি চেয়ারম্যান এবং ওসি এর অনুমতি সাপেক্ষ বাধ দেয়া হচ্ছে। বাশ ও গাছ ফেলে প্রায় ২ হাজার ফুট বাধ দিচ্ছেন তারা।
তবে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, তেতুলিয়া নদীর এই অংশে বাধ দেয়া গেলে এর মাঝে যে চর জেগেছে তা দখল করা যাবে। ওই অংশে মাছের ঘেরও করতে পারবে। যেকারনে স্থানীয় চেয়ারম্যান সামছুল বারী মনির এর নির্দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে বাধ দেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, এভাবে বাধ দিলে বসতি আরও ভাঙ্গবে। বিশেষ করে বাধের কারনে ভাঙ্গনের মুখে পড়বে আলিমাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। তাছাড়া নৌযান চলাচলও বাধাগ্রস্থ হবে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, মাসকাটা নদীর মোহনা থেকে শ্রীপুর লঞ্চঘাট হয়ে ওই পথে উলানিয়া থেকে বরিশালগামী আল আফসারসহ বিভিন্ন লঞ্চ যাতায়াত করছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় এখন বাধ দিচ্ছে প্রভাবশালীরা।
আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরমিঠুয়া গ্রামের নদী বাধ সর্ম্পকে তিনি কিছুই জানেন না। জানতে চাইলে চরগোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল বারী মনির বলেন, যে স্থান দিয়ে গাছ দিয়ে তারা বাধ দিয়েছেন সেটি চরের কারনে খালে পরিনত হয়েছে। ওই খাল বর্ষায় চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের আসপাশের গ্রামের বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙ্গনের সৃস্টি করছে। তারা এজন্য তেতুলিয়া নদীর ওই অংশে বাশ ও গাছ দিয়ে পানি প্রবাহ রোধে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করেছেন মাত্র। পানি যাতে পাড়ে আঘাত না লাগতে পারে এজন্য ২ হাজার ফিট এলাকা আটকে দেয়া হয়েছে। তাতে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে না। নৌযান যাবে অন্য পথে। ওই স্থানে মাছের ঘের করা কিংবা নতুন জেগে ওঠা চর দখল এর বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদ্য যোগদানকারী নির্বাহী কর্মকর্তা পিযুষ চন্দ্র দে কে রোববার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করে পরে বন্ধ করে রাখেন। এব্যপারে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদ্য সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নদী বা খালে বাঁধ দিতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতির দরকার হবে। তিনি বিষয়টি জানতেন না। এ বিষয়টি খোজ নেয়ার জন্য সংশ্লিস্টদের নির্দেশ দিবেন।

