নাগরিক রিপোর্ট: ওষুধ সেবনের জন্য গর্ভবতী নারীর মুখে পানির বদলে ভুলে
দাহ্য পদার্থ (এসিড জাতীয়) ঢেলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে পটুয়াখালীর
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার নারী নিপা
হালদারের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা
মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান,
নিপাকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার অবস্থা
তেমন গুরুতর নয়। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।
নিপার বাড়ী ঝালকাঠি জেলায়। নির্মান শ্রমিক স্বামীর কর্মস্থল পুলক হালদারের
কর্মস্থলের কারনে সে স্বামীর সঙ্গে কলাপাড়া শহরের বাদুরতলা এলাকায় থাকেন।
স্বামী পুলক হালদার জানান, শারিরীক সমস্যার কারণে এম.আর করাতে নিপাকে
শুক্রবার সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এম.আর
শেষে সেবিকা সালমা বেগম নিপাকে ওষুধ খাওয়াতে বলেন। এসময় পানি চাওয়া হলে
একজন আয়া একটি পানির বোতল এগিয়ে দেন। পাশাপাশি রাখা দুটি মাম পানির বোতলের
একটিতে এসিড জাতীয় দ্রব্য রাখা ছিলো। ভূলে ওই বোতলটিই দেন আয়া। এসিড জাতীয়
দ্রব্য নিপার মুখে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালাপোড়া শুরু হলে তিনি মুখ থেকে তা
ফেলে দেন। নিপার চিৎকারে চিকিৎসকরা ছুটে এসে তাকে দ্রæত চিকিৎসা দেন। পরে
উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলকের সহকর্মী আহসান হাবিব জানান, নিপা যখন তরল দাহ্য পদার্থ মুখ থেকে
বাহিরে ফেলেন তখন সেই পানি সেবিকা সালমার মুখেও গিয়ে পড়ে। এতে তিনিও আহত
হন। তবে তার অবস্থা নিপার মত খারাপ নয়।
নিপার শাশুড়ি কানন হাওলাদার জানান, পাশাপাশি রাখা দুটি বোতলের কোনটিতে
দাহ্য পদার্থ ছিল তা বোঝার কোন উপায় ছিলনা। হাসপাতালের প্রয়োজনেই দাহ্য
পদার্থ রাখা হয়েছিল বলে সেবিকা সালমা রোগীর স্বজনদের জানিয়েছেন।
২০২০-০২-০৮
