নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়, পুলিশের বিচার দাবী

শেয়ার করুনঃ

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে নির্যাতন করে স্বামী খুনের স্বীকারোক্তী আদায় করায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবী করেছেন ঘটনার শিকার গৃহবধু আমিনা আক্তার লিজা (৩০)। শনিবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে লিজা বলেন, কেতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বশির আহমেদ (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) ও এসআই ফিরোজ আল মামুনসহ কয়েকজন তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। থানার কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তখন থানায় উপস্থিত থাকায় তারাও বিষয়টি অবগত ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার বিচার দাবী করেছেন তিনি।


আমিনা আক্তার লিজা (৩০) বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর গ্রামে গতবছর ১৮ ফেব্রæয়ারী দিবাগত রাতে নিজ ঘরে খুন হওয়া দলিল লেখক রেজাউল করীম রিয়াজের (৪৫) স্ত্রী। হত্যাকান্ডের পর পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় ২০ ফেব্রæয়ারী লিজার পরকিয়া প্রেমিক মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। মামলার অধিকতর তদন্তকালে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ছগীর তিন চোর গ্রেফতার করলে তারাও রিয়াজকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তী দেয়। তারা বলেছে, ঘরে চুরি করতে ঢুকলে রিয়াজ জেগে ওঠায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।


ফলে এ মামলটি বর্তমানে বরিশালে আলোচিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক বশির আহমেদকে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রোববার সাময়িক বরখাস্ত করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।


গতকাল সাংবাদিক সম্মেলন করে লিজা বলেন, রিয়াজ খুন হওয়ার সময় তিনি অন্যকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে অমানুষিক নির্যাতন, ভাই-বোনকে আটকের পাশাপাশি যৌননির্যাতন করার ইঙ্গিত দিয়েছিল এসআই বশির। শেখানো স্বীকারোক্তি না দিলে আবারও রিমান্ডে এনে নির্যাতনের ভয় দেখানো হয়। আদালতে নেয়ার পর তাকে একই ধরনের তিনজন কর্মকর্তার কক্ষে নিয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলায় তিনি বুঝতে পারেননি আসল বিচারক কে।


লিজার অভিযোগ, নিহত স্বামী রিয়াজের ভাই মনিরুল ইসলাম রিপন তাকে ও তার সন্তানকে সম্পত্তি বঞ্চিত করার জন্য এসআই বশির আহমেদের সঙ্গে যোগাসাজস করে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *