রপ্তানির দোহাই দিয়ে ইলিশ মজুদ, বরিশালে দাম অস্বাভাবিক

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: হঠাৎ পাল্টে গেছে বরিশাল ইলিশ মোকামের চিত্র। বাজারের সেই সরব ভাব আর নেই। বড় বড় ইলিশগুলোও যেন উধাও। অলিগলিতেও ক’দিন ধরে আর ইলিশ, ইলিশ বলে ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের ডাকও শোনা যাচ্ছে না। মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ইলিশের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। এর কারন হিসেবে সংশ্লিস্টরা মনে করছেন ভারতে ইলিশ রপ্তানির ‘বিশেষ অনুমতি’ এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। এতে একদিকে যেমন চলছে অসাধু আড়তদারদের ইলিশ মজুদ, অপরদিকে দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক। মনিটরিং না থাকায় রপ্তানীর দোহাই দিয়ে ইলিশ মজুদ ও দাম চড়া করছে ব্যবসায়ীরা এমনটাই মনে করেছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।


গত ১০ সেপ্টেম্বর ইলিশের ‘বিশেষ অনুমতি’ দেয়া হয়েছে ভারতে। ১৪শ ৫০ টন ইলিশ অচিরেই যাচ্ছে সে দেশে। যদিও ২০১২ সাল থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ ছিল। এদিকে এ সুযোগে কতিপয় অসাধু আড়তদার বড় ইলিশ মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আকাশ চুম্বি। যে কারনে বরিশাল মৎস্য মোকামে ইলিশের আমদানী অর্ধেকে নেমে এসেছে।


শনিবার বরিশাল ইলিশ মোকাম ঘুরে জানা গেছে, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৯৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৭০০ টাকা। এলসি সাইজের (৬০০-৯০০ গ্রাম) ইলিম কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা দরে। গত ৪দিন আগে এর দাম চিল কেজিতে ৫০০ টাকা। বরিশাল মৎস্য আড়তদার সমিতির অফিস সেক্রেটারী মো: রানা বলেন, ইলিশের দাম কেজিতে ২-৩ হাজার টাকা বেড়েছে। স্থানীয় নদীর বড় ইলিশ খুবই কম। সাগরের ইলিশও নেই। তিনি বলেন, সাগরের বোট আসলে হয়তো দাম কমতে পারে।


মোকামের একাধিক ক্ষুদ্র ইলিশ বিক্রেতা জানান, বড় ইলিশ মোকামে উঠছেই না দু’দিন ধরে। অথচ গত সপ্তাহেও ১ কেজির উপরের ইলিশের ছড়াছড়ি ছিল। সব মজুদ করছেন কয়েকজন আড়তদার। চিহিৃত ওই ব্যবসায়ীরা ইলিশ রপ্তানির দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিক্রেতারা। নগরীর বটতলা বাজার, চৌমাথা বাজার, বাংলা বাজার, নতুন বাজার ঘুরে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমান একাধিক মাছ বিক্রেতা জানান, তারা কয়েকদিন ধরে ইলিশ পাচ্ছেন না। আড়তদাররা রপ্তানির দোহাই দিচ্ছেন।


জানতে চাইলে মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি অজিত দাস মনু বলেন, ইলিশের আমদানী অর্ধেকে নেমে গেছে। কেজি প্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। তিনি সাগরের মাছ না থাকার জন্য দাম বেড়েছে বলে জানান। রপ্তানির সিদ্ধান্তে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি দাবী করেন, ইলিশ রপ্তানির প্রভাব বাজারে পড়ার সুযোগ নেই। যখন রপ্তানি হবে তখন আবার প্রচুর ইলিশ থাকবে।
বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড: বিমল চন্দ্র দাস বলেন, জেলেরা সাগরে ইলিশ ধরতে গেছেন। ফিরলে আবার দাম কমবে। এই মুহর্তে দাম গত সপ্তাহের চেয়ে অস্বাভাবিক বলে তিনি জানান।


তবে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বরিশাল জেলা সাধারন সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেন, সরকার ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। এ খবর চলে আসায় আড়তদাররা ইলিশ মজুদ করে দাম বাড়িয়েছে। এর ফল ভোগ করছেন জনগন। তিনি বলেন, রপ্তানি এখনও শুরু হয়নি অথচ অসাধু ব্যবসায়ীরা ইলিশ মজুদ করছে। অথচ ক’দিন আগেও ইলিশের দাম মানুষের নাগালে ছিল। আর এখন ছোয়া যায় না। ইলিশের বাজারের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি দরকার।


এব্যপারে বরিশাল জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এ এস এম হাসান সরোয়ার শিবলি বলেন, রপ্তানি ও সংরক্ষনের কারনে ইলিশের দাম বেড়েছে। এই দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারন রপ্তানির খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়া। বেসরকারী উদ্যাক্তরাও মাছের ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, তারা বাজার তদারকি করে যাচ্ছেন। দাম ও মজুদ অস্বাভাবিক হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *