নাগরিক রিপোর্ট:
সহপাঠীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষার্থীরা শনিবার থেকে ফের আন্দোলনে নেমেছে। ৩ দফা দাবীতে সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসের মুল ফটকে জড়ো হয়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নেয় তারা। এতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, বরগুনাসহ দক্ষিনাঞ্চলের ১০ রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পরেন এসব রুটের হাজার হাজার যাত্রী। এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ২ শ্রমকিকে আটক করলেও আন্দোলনকারীরা চিহিৃত হামলাকারীদের গ্রেফতারে তাদের অবরোধ কর্মসুচী অব্যাহত রেখেছে।
শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবী হচ্ছে- চিহিৃত হামলাকারীদের গ্রেফতার করা, অভিযুক্তদের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থী অমিত হাসান রক্তিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গা ছাড়া ভাব দেখিয়েছে। আমাদের মৌলিক অধিকার আদায়ে ৩ দফা দাবীতে আন্দোলন চলামান রেখেছেন। এছাড়া এই মহুর্তে তাদের কিছুই করার নেই। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ২ জনকে আটকের নামে চিহিৃত হামলাকারীদের আড়াল করার চেস্টা করছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের নামের তালিকা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। আবার সেই অভিযোগে ঘটনার সঠিক বিবরণ না দিয়ে শুধুমাত্র জখমের কথা উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীরা ববি কর্তৃপক্ষের নতজানু নীতি প্রত্যাখান করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ রেখেছেন।
এদিকে ববি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ রুমি বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার নগরের রুপাতলী বাস্টট্যান্ড এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের মেসে ঢুকে হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন চেস্টা অব্যাহত রেখেছেন।
জানা গেছে, দুই শ্রমিককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রুপাতলীতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। রুপাতলী বাস টার্মিনাল ও বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রয়ারী দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর সাথে নগরীর রুপাতলীস্থ বিআরটিসি কাউন্টারের স্টাফের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তুচ্ছ ওই ঘটনায় কাউন্টার স্টাফ রফিক ২ শিক্ষার্থীকে লাঞ্চিত করে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষনিকভাবে সড়ক অবরোধ করে এবং রফিককে গ্রেফতারের দাবি জানায়। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার গভীররাতে রুপাতলী এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেসে গিয়ে নৃশংস হামলা চালায় বাস শ্রমিকরা। বুধবার দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিকেলে সড়ক অবরোধ স্থগিত করে।
আল্টিমেটাম শেষে দাবী না মানা হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। একই দাবীতে শনিবার সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে তারা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ববি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে হামলার নেতৃত্বদানকারী ৩জনের নাম প্রকাশ করেছে। এরা হচ্ছেন- মহানগর আ’লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মানিক এবং তেল মামুন নামের এক শ্রমিক নেতা। এরা সকলেই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে জড়িত।
