নাগরিক রিপোর্ট : অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জুর হোসেন বলেন, “ভর্তি হওয়ার পর প্রথম ক্লাসে আসলাম, যেন নতুন জীবন পেলাম”। বরিশাল নগরীর হাসপাতাল সড়কে অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ে গতকাল রোববার সকালে দেখা গেছে কলেজ ক্যাম্পাসের প্রবেশ মুখেই রাখা হয়েছে হাতধোয়া ও শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা সবাই এসেছে মাস্ক পড়ে। শ্রেণীকক্ষে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল খুশির ঝিলিক।
এ কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী জানান, করোনায় মারা যাওয়া মানুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রত্যেক ক্লাসে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর উপস্থিতির হার ছিল ৭০-৮০ ভাগ। প্রতিটি বেঞ্চে দুজন করে শিক্ষার্থী বসেছে। প্রত্যেক বিষয়ের জন্য ৩টি শাখা করে ক্লাস নেয়া হয়েছে শারীরিক দুরত্ব মেনে। আনন্দঘন পরিবেশে ক্লাস হয়েছে।
বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান ফটকেও ছিল হাতধোয়া ও তাপমাত্রা পরীক্ষার ব্যবস্থা। প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেন বলেন, সবার জন্য মাস্ক নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই শিফটের (সকাল ও দুপুর) ক্লাস হয়েছে পঞ্চম, অষ্টম, দশম এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।
এ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়েশা বিনতে রাখি বলেন, ‘এতদিন ঘরবন্দী ছিলাম। আজ মনে হচ্ছে প্রাণখুলে নি:শ্বাস নিতে পারছি’।
সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. এহতেসাম উল হক বলেন, ৯টা থেকে ১২টা এবং ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দুই শিফটে ক্লাস নেয়া হয়েছে। শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা হয়েছে। ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই ছিলেন উৎফুল্ল।
সরকারি বরিশাল কলেজের শিক্ষার্থীদের কলেজপ্রাঙ্গনে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান বিএনসিসি’র সদস্যরা। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্বাস উদ্দিন খান বলেন, সরকারি সকল বিধি অনুসরন করে পাঠদান করা হয়েছে আনন্দঘন পরিবেশে।
নগরীর জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানানো হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। চারুকলা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আনন্দমুখর পরিবেশের ছবি এঁকে তা প্রদর্শন করে সকাল ৮টা থেকে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়।
সরকারি বরিশাল কলেজসহ নগরীর ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস বলেন, বরিশাল বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক ৩৬২ টি, মাধ্যমিক ১৪৪৭ টি এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৯৬টি। অধ্যাপক মো. ইউনুস বলেন, আমার দেখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা হয়েছে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার নগরীর বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মজুমদার প্রমুখ।
এদিকে নগরীর বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যথাযথভাবে পাঠদান করা হলেও উপজেলা পর্যায়ে কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারনে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করা সম্ভব হয়নি। সদর উপজেলার নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নদীভাঙ্গন কবলিত হওয়ায় বিদ্যালয় সভাপতির বাড়িতে গতকাল পাঠদান করা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহদত হোসেন জানান, উপজেলার রুকুন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমীরগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস হয়েছে অস্থায়ী শেডে। হিজলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার জানান, উপজেলার দক্ষিণ বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরআবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বদরটুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নদীভাঙ্গনের ঝুকিতে থাকায় গতকাল ক্লাস নেয়া হয়েছে অস্থায়ী শেডে।
উজিরপুর উপজেলার উত্তর কুড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অপর ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শেড করে পাঠদান করা হয়েছে। ##
২০২১-০৯-১২
