ভোটার বাগাতে ভুড়িভোজ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন নির্বাচন ইউপি ভোটের আগ মুহুর্তে বরিশালে ভোট যুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। নগর ঘেষা সদর উপজেলার ৬টি ইউপিতে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ইতোমধ্যে চরমোনাই, রায়পাশা-করাপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সংঘাতও ঘটেছে। নির্বাচনের আগে ভোটার বাগাতে ভুড়িভোজেরও আয়োজন করেছে সায়েস্তাবাদে নৌকার প্রার্থী। এ নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে সেখানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আইনশৃংখলাবাহনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বরিশাল নির্বাচন অফিসের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসর মো: নুরুল আলম বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনে প্রচারন বন্ধ হচ্ছে। সদরের ৬টি ইউনিয়ন যথাক্রমে চরমোনাই, চরকাউয়া, চন্দ্রমোহন, চাদপুরা, রায়পাশা-করাপুর ও সায়েস্তবাদে ১১ নভেম্বর ভোট। ৬টি ইউনিয়নে মোট কেন্দ্র ৫৫টি। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩১জন, সাধারন ওয়ার্ড সদস্য ২০৮জন এবং সংরক্ষিত সদস্য ৭১জন। ৬ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৯৭জন। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে আস্থা রাখতে পাড়ছে না ভোটাররা। সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদে নৌকা ও আ’লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা চলছে। সেখানে মঙ্গলবার বিকেলে পাল্টাপাল্টি জনসবা করেছে দুই পক্ষ। এজন্য ভোটার বাগাতে এক পক্ষ ভুড়িভোজ করিয়েছে। আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের রুবেল হোসেন মামুন তালুকদার অভিযোগ করেন, চরআইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ দখল করে কর্মসূচি পালন করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুন্না। এ কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রবেশ করতে পারেনি। তিনি ভোটারদের ভুরিভোজ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। এটা সম্পূর্ণই আচরণবিধি লংঘন।

তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরিফুজ্জামান মুন্না বলেন, শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হোক এটা কখনই আমি চাইনি। তাদের বিষয় বিবেচনা করেই দুপুর তিনটায় কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। যেহেতু দূর-দূরান্ত থেকে কর্মীরা আসবেন শুধু তাদের জন্য খিচুড়ির আয়োজন করা হয়েছে।

সায়েস্তাবাদ ইউপি ভোটের রিটার্নিং অফিসার সঞ্জিব সন্যামত জানিয়েছেন, স্কুল মাঠ দখল করে কোন ধরনের ভুড়িভোজ কিংবা সভা-সমাবেশ আচারনবিধি লংঘনের শামিল। তিনি এখনও অভিযোগ পাননি। তবে খতিয়ে দেখবেন।

রাজনীতিতে বিএনপি-আওয়ামীলীগের সম্পর্ক সাপে-নেউলে। এ নিয়ম পাল্টে গেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে। সেখানে প্রতিদিন মাইকে প্রচার হচ্ছে- ‘সালাম রাঢ়ীর সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’। আব্দুস সালাম রাঢ়ী হলেন- চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক। শুধু মাইকে প্রচার নয় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছেন তিনি। এখানে নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী চরমোনাই পীরের ছোট ভাই সৈয়দ জিয়াউল করীম। এমন কি সেখানে কয়েক দফায় হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

রোববার রাতে চরমোনাই ইউপির বুখাইনগর বাজারের নির্বাচনী কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাংচুর চালায় বলে দাবী করেছেন সেখানকার নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম। এসময় চেয়ার-টেবিল, প্রচারণার গাড়ীর মাইক ভাংচুরসহ কার্যালয়ে সাটানো ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। হামলায় তার কর্মী মাহবুব, ইউসুফ, শফিক, জাহিদ হাসান মনুসহ ৮-১০জন আহত হয়েছেন।

অপরদিকে চরমোনাই ইউনিয়নের ১ নং নলচরে হাতপাখার কর্মী মিন্টু হাওলাদারকে কুপিয়ে জখম করে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা। পোস্টার ছিড়রতে বাধা দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ তদন্ত চলছে।

এদিকে সদর উপজেলার চরমোনাই ও রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী শাহরিয়ার বাবুর চোখের শুল হয়ে দাড়িয়েছে বিদ্রোহী মোটরসাইকেল প্রার্থী হাবিবুর রহমান খোকন। তবে এ ইউনিয়নে অন্যতম শক্তিশালী বিএনপির অলিখিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় সেখানে মারামারি হয়েছে।

রোববার দুপুরে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামানসহ তার নেতাকর্মীদের ওপর বৌসেরহাট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, চশমা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রোববার ১নং রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বৌসেরহাট এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে যান। এসময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবুসহ তার সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র ও রড নিয়ে হামলা চালায়। একই রাতে ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়াপুর গ্রামের কারিকরবাড়ী এলাকার নির্বাচনী কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলেন নৌকার প্রার্থী আহমেদ শাহরিয়ার বাবু জানান।

অবশ্য এবারের ভোট উৎসবমুখোর হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার। সোমবার বিকেলে তিনি রায়াপাশা-করাপুর ইউনিয়নের ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে গিওেয় এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ আপনাদেরকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেব। আপনারা সকলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচনে বিশৃংখলা ঘটাতে পারে, এমন কোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে কোন তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *