অসন্তোষ বাড়ছে ববি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা প্রায়সই লাঞ্চনা, হামলার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা শ্রমিকদের হাতে। এর জেরে মহাসড়কের বিশ্ববিদ্যালয় অংশে অবরোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাবাসীও বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে। এতে ঘটছে বাড়িঘর, দোকানপাটে হামলা-ভাংচুর কিংবা লুটপাটের ঘটনা। গত মঙ্গলবার রাতে সংঘটতি এমন ঘটনায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাধছে।

শিক্ষার্থীরা দাবী করেছেন, তারা মহাসড়ক অবরোধ কিংবা বাড়ি ঘরে হামলা করে ক্ষতিসাধন করতে চান না। কিন্তু সহপাঠীরা আক্রান্ত হোক তার পুনরাবৃত্তিও আশা করেন না। অপরদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, বাড়িঘর এবং দোকানপাটে বার বার হামলায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বিরোধে অসন্তোষ দানা বাধলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবী করেছেন। যার কারনে ববি’র সাথে প্রতিবেশীদের দুরত্ব দিন দিন বেড়িয়েই চলছে।

মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে লাঞ্চনার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দবাজারের পাশে ঘটনার সাথে জড়িতদের দুটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ মে এই আনন্দ বাজারেই ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দোকান ও বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এদিকে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় সংঘর্ষে মহাসড়কে রনক্ষেত্র হয় ছাত্র ও শ্রমিকদের মধ্যে।

বরিশার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সোহেল রানা মঙ্গলবার রাতে ছাত্রী লাঞ্চনার ঘটনায় আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনটা আর না ঘটে সে বিষয়ে প্রক্টর ও পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন। আমরা এর দৃশ্যমান উদ্যোগ না দেখলে পদক্ষেপ নিবো

শিক্ষার্থী সোহেল বলেন, আমরা চাই না সাধারন মানুষের দুর্ভোগ ও কস্ট হোক। যারা নিরপোরাধ তাদের ক্ষতি হোক। কিন্তু শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিবে এতো সাহস তারা কোথায় পায়। এতে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ রয়েছে। সোহেল দাবী করেন, এলাকাবাসীর বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনাটি সাজানোও হতে পারে। তার দাবী যতবার মহাসড়ক অবরোধ করেছেন তার মুল কারন পুলিশের ও এলাকাবাসীর দৃস্টি আকর্ষন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম ইয়ামিন জানান, সহপাঠীর উপর হামলায় ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর বাজারে শিক্ষার্থীদের ভীর কম। এলাবাসীও তেমন একটা বাজারে আসেননি। তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। ঘটনাস্থল আনন্দবাজারের বাসিন্দা ও জাপা নেতা জয়নাল আবেদিন বলেন, সাধারন মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। শিক্ষার্থীরা এখানে যাই করুক, না তাকালেই হয়। কিন্তু নিরিহ লোকের দোকানপাট, বাড়িঘর বিভিন্ন সময় ভাংচুরে এলাকাবাসী হতাশ। পার্শবর্তী ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জিবুল হক সেন্টু বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় ওই এলাকার পুরুষরা তার এলাকায় ভয়ে চলে আসেন। কর্নকাঠীবাসী এভাবে দ্বন্দ, বিরোধে হতাশ।

পূবাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য মুনাওয়ালি উল ইসলাম অলি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর আন্দোলনের ফসল এ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের দ্বারা স্থানীয় গ্রামবাসীর বাড়িঘরে প্রায়সই হামলা ভাংচুর হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় হামলা ও মহাসড়ক অবরোধ হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এগুলোর সন্তোষজনক সমাধান দরকার। তিনি বলেন, তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, ব্যবসার প্রসার ঘটবে। কিন্তু এখন এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় নিগৃহিত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষ আতংকিত। এলাকাবাসী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে বসে এর অবসান চান।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, ছাত্রী লাঞ্চিতর, বাড়িতে হামলার ঘটনা অনাকাংখিত। ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ ছিল। অনাকাংখিত ঘটনায় মহাসড়কে অবরোধ ঘটালে নেতীবাচক প্রভাব পড়ে। তারা চিন্তা করছেন শিক্ষার্থীদের কিভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই বসতি, ব্যবসা। আসপাশের মানুষের সঙ্গে এ ধরনের ঝামেলার অবসানে তারা স্থানীয় গন্যমান্য, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃংখলাবাহিনী, প্রশাসন নিয়ে যোগাযোগ রক্ষার একটি মাধ্যম গড়ে তুলতে চিন্তাভাবনা করছেন। কেন না কেউ যাতে আইন হাতে না নেয়। তিনি বলেন, এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এব্যপারে বরিশাল মেট্রেপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামির বাড়িতে ভাংচুর-লুটপাটের বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেননি। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতিও শান্ত আছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *