নাগরিক রিপোর্ট : প্রাণ দিয়ে অসম প্রেমের খেসারত দিল কিশোরী সুমি আক্তার (১৩)। শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার পর ৩৩ দিনের দু:সহ যন্ত্রনা সয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুরবন করেছে সে। গত ২১ জানুয়ারী বিকালে শরীরে আগুন দেয়ার পর বরিশাল মেডিকেল ও ঢাকা বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল তাকে।
সুমি আক্তারের মা শিউলি বেগম অভিযোগ করেন, একই ইউনিয়নের বিবাহিত যুবক রাকিব ফকিরের প্রেমের ফাঁদে পড়ে অভিমানে সুমি আত্মহত্যা করেছে। শরীরে আগুন দেয়ার আগে রাকিব সুমিকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে সে ২১ জানুয়ারী বিকালে বাড়ির ওঠানে গায়ে কেরোসিন ঢেলে চুলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অভিযুক্ত রাকিব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মোবারক ফকিরের ছেলে। সুমি আক্তার একই ইউনিয়নের জাহাপুর গ্রামের শিউলি বেগমের মেয়ে। ডিভোসী শিউলি একমাত্র সন্তান শিউলিকে নিয়ে জাহাপুর গ্রামে পিত্রালয়ে থাকতো। তিনি গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। সুমি জাহাপুর মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।
শিউলি বেগম জানান, রাকিবের মা সেইন্ট বাংলাদেশ নামক একটি এনজিওতে চাকুরী করায় তার পূর্ব পরিচিত ছিল। ঘটনার ১৩ দিন আগে মেয়েকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে রাকিবের সঙ্গে সুমির পরিচয় হয়। শিউলি অভিযোগ করেন, রাকিব কৌশলে তার সুন্দরী মেয়েকে পটিয়ে প্রেমের সম্পর্কে করে। তিনি (শিউলি) বিষয়টি টের পেয়ে মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং রাকিবের মায়ের কাছে নালিশ দেন। রাকিবের মুঠোফোন নম্বর ব্লক করে রাখলে সে বিভিন্ন নম্বর দিয়ে সুমির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে।
শিউলি বলেন, এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রাকিব ২১ জুন বিকালে সুমিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ফোন রেখেইে সে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শিউলি জানান, সুমির শরীরের ৪৫ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। তাকে ঢাকা বার্ণ হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়ার পর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, সুমির মৃত্যুর পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, কিশোরী সুমি স্থানীয় যুবক বিবাহিত ও সন্তানের জনক রাকিবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিল। সুমি ও রাকিবের মা বান্ধবী হওয়া দুই পরিবারের মধ্যে আসাযাওয়া ছিল। সুমিকে বিয়ে করতে আগের স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্য রাকিব ১ লাখ টাকা দাবী করেছিলো। এনিয়ে সম্পর্কের অবনতি হলে উদ্ভট পরিস্থিেিত সুমি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সুমির মা শিউলি বেগম বিকাল সাড়ে ৩টায় জানান, মামলা দায়ের জন্য বাবুগঞ্জ থানায় অবস্থান করছেন।##
