নাগরিক রিপোর্ট:
ভুরঘাটা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশ বেদখল হয়ে আছে। এই মহাসড়কের মধ্যেই আবার অবাধে চলছে থ্রি হুইলার। এভাবে বেদখল আর অবৈধ যানবাহনের কারনে বাড়ছে মহাসড়কে দুর্ঘটনা। পদ্মা সেতু চালু হলে এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধির আশংকা করেছেন মালিক, শ্রমিকসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে অন্তত নগরের মধ্যের ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক দ্রæত প্রসস্থের তাগিদ দিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রুপাতলী, সাগরদী, আমতলা, চৌমাথা, নথুল্লাবাদ কাশিপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট, নির্মান সামগ্রী, গাছ ফেলে দখল করে রাখা হয়েছে। এই মহাসড়কেই ঢাকা থেকে যানবাহন এসে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যায়। নগরীর বাইরের আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু সংলগ্ন মোড়, বিমানবন্দর সংলগ্ন মোড়, রহমাতপুর মোড়, দোয়ারিকা সেতু এবং শিকারপুর সেতুর মোড় মারাতœক ঝুকিপূর্ন হয়ে গেছে। এসব মোড় এতো সরু যে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। তার উপর রিকশা, অটোরিকশা, থ্রি হুইলার মহাসড়কের উপর দিয়ে চলায় র্দুঘটনা বাড়ছেই।
এদিকে পদ্মা সেতু চালুর খবরে এই অপ্রসস্ত মহাসড়ক নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বরিশালের সব শ্রেনীপেশার মানুষ। সোমবার সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে করনীয় শীর্ষক এক সভায় মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য নানা কারন তুলে ধরে দ্রæত ভুরঘাটা থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তের তাগিদ দেয়া হয়। বরিশালের অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট রকিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো: আমিন উল আহসান।
স্বাগত বক্তব্যে বিআরটিএ’র বিভাগীয় উপ পরিচালক (ইঞ্জি) মো: জিয়াউর রহমান পিএএ বলেন, দেশে বছরে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতবরন করে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৪ লেন হলে এ দুর্ঘটনা রোধ হবে।
তবে পরিবহন চালক, মালিক ও শ্রমিক নেতারা সভায় বলেন, তাদের বৈধ যানবাহন নগরে চলতে পারেনা। নগরের সড়ক অবৈধ ১৫ হাজার রিকশা, অটোরিকশা দখল করে আছে। যেকারনে থ্রি হুইলার বাধ্য হয়ে মহাসড়কে ওঠে। বাস মালিক নেতারা দাবী করেন, মহাসড়কের দুই পাশে গাছ ফেলে রাখা হয়। অবৈধ দোকানপাট দখল করে রেখেছে সড়ক।
তার উপর অবৈধ থ্রি হুইলার মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ানোয় দুর্ঘটনা ঘটছে। চালক ও মালিকরা দাবী করেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ভুরঘাটা থেকে বরিশালে যে পরিমান গাড়ি বাড়বে তাতে তারা আতংকিত। সড়কের পাশের গাছ, দোকানপাট সরিয়ে এখনই প্রসস্ত করা দরকার বলে তারা মনে করেন।
এসময় নিরাপদ সড়ক চাই এর বরিশালের আহবায়ক অধ্যাপক রুহুল আামিন বলেন, পদ্মা সেতু হলে মহাসড়কে যানবাহনের গতি আরও বাড়বে। সড়ক নিরাপদ করতে হলে নথুল্লাবাদ, রুপাতলী, চৌমাথা মোড়ে অবৈধ স্টান্ড বন্ধ করতে হবে। তাছাড়া রুপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ সড়ক এর দুই পাশ সংস্কার জরুরী। বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বিএম কলেজের সামনে সম্প্রতি কলেজ ছাত্রের সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা তুলে ধরে চালকদের প্রশিক্ষন দেয়ার জন্য মালিক, শ্রমিক নেতাদের তাগিদ দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান বলেন, চালকরা আমেরিকা, ইউরোপের সড়ক মনে করে যানবাহন চালান। এজন্য প্রানহানী ঘটছে। তিনি বলেন, এই যে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত মহাসড়ক পদ্মা সেতু চালু হলে কতটা ঝুকিপূর্ন হবে তা উদ্বেগজনক।
এ প্রসঙ্গে সভায় বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় কমিশনার মো: আমিন উল আহসান বলেন, আগামী ২৩ জুন পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা ভুরঘাটা বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক ভয়াবহ অবস্থায় পরিনত হবে। এখনই দ্রæত সড়ক প্রসস্তকরনের উদ্যোগ না নিলে এই নগর অচল হতে পারে। তিনি এসময় সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে তাগিদ দেন।
জবাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেছেন, বরিশাল থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তারা ইতোমধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন রহমাতপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন। পদ্মা সেতু ছেড়ে দেয়ার আগেই মহাসড়কের দুই পাশে দ্রæত হেরিং বন করার চিন্তা করছেন।
