নাগরিক রিপোর্ট : মৎস্য অধিদপ্তরে ক্যালেন্ডারের পাতায় ইলিশ মৌসুম শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই। তারপরও ইলিশ নিধনে একটু বিধি নিষেধ ছিল। সাগরে মাছ ধরা যাবেনা। সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে (রাত ১২টায়)। তারপর থেকে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীন জলসীমার কোথাও ইলিশ আহোরনে বাঁধা নেই জেলেদের। সে হিসাবে আগামী আড়াই মাস ইলিশের ভরপুর মৌসুম শুরু হবে আজ মধ্যরাতে।
তবে উপকূলের বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে, গত ঈদুল আযাহার ছুটিতে প্রশাসনের ঢিলেঢালার সুযোগে উপকূলের বেশীরভাগ জেলে ট্রলার নিয়ে গভীর সাগরে চলে গেছে। সাগরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জেলেদের অনৈতিক চুক্তির অভিযোগও রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, গভীর সমুদ্রে সব ধরনের মাছ আহরনে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২০ মে শুরু হয়েছিল, আজ শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে তা শেষ হবে। পরবর্তী নিষেধজ্ঞা দেয়া হবে- ইলিশের প্রজনন মৌসুম আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট একমাস। এ নিষেধাজ্ঞা শুরুর সম্ভাব্য সময় হচ্ছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ। এর আগে আর কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় জেলেরা বাঁধাহীনভাবে আড়াই মাস ইলিশ ধরতে পারবেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশালের মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ আহোরনে বার্ষিক লক্ষমাত্রার দুই তৃতীয়াংশ পুরন হয় এই সময়ে। সে হিসাবে আগামী আড়াই মাস ইলিশের সবচেয়ে ভরপুর মৌসুম।
এ কর্মকর্তা বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে সাগর ছেড়ে নদীর দিকে ছুটে। তখনই জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আগামী আমাবশ্যার (চলতি মাসের শেষ দিকে) প্রভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ইলিশ বেশী পাওয়ার সম্ভবনা আছে বলে জানান ড. বিমল।
নিষেধাজ্ঞা শেষের আগেই ট্রলার গেছে সাগরে : বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও অভিযোগ উঠেছে, উপকূলীয় উপজেলার প্রভাবশালী মৎস্য আড়তদারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গভীর সাগরে ট্রলার পাঠিয়েছেন ইলিশ নিধন করতে।
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, সাগর তীরের জনপদ পাথরঘাটায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরন কেন্দ্র (বিএফডিসি)। এ মোকামে এখন কয়েকটি ট্রলার নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছেন। এর আগে শত শত ট্রলার ঈদুল আযাহার পরই গভীর সাগরে গেছে ইলিশ নিধনে। রোববার থেকে ওই ট্রলারগুলো ইলিশ নিয়ে পাথরঘাটা মোকামে ফিরবে।
বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সহ মান্নান মাঝি জানান, পাথরঘাটা মোকামের বেশীরভাগ ট্রলার নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গভীর সাগরে গিয়ে মাছ নিধন শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞা শেষেই তারা ফিরে আসবে। এরপরই পাথরঘাটা বিএফডিসি জমজমাট হয়ে উঠবে। কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি একই তথ্য জানিয়েছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই বেশীরভাগ ট্রলার গভীর সাগরে চলে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কিছু সংখ্যক দুষ্ট প্রকৃতির মৎস্যজীবী রাতের আধারে সাগরে চলে গেছে। তবে কোন (মাছ ধরা পড়ার বিশেষ সময়) না থাকায় তারা বেশী মাছ আহোরন করতে পারবে না’।
