নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাসা ডুবে যাওয়ার দৃশ্য তুলে নিজেকে ‘উদ্বাস্তু’ অবহিত করেছেন। অধ্যাপক হাবুলের মত গত ২২ ঘন্টায় নগরের অধিকাংশ বাসা-বাড়ি, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরের এই জলাবদ্ধতা বছরের পর বছর চললেও তার কোন সমাধান করতে পাড়ছে না বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। যেকারনে ঘুর্নিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে এবার নজিরবিহীনভাবে পানিতে ডুবছে নগর। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৭ কোটি টাকায় নগরের সাতটি খাল খননের প্রকল্প হাতে নিলেও তা আপত্তি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। সংশ্লিস্টরা নগর ডুবে যাওয়ার জন্য ৩টি কারন উল্লেখ করে সামনে ভয়াবহ অবস্থা সৃস্টির আশংকা করছেন।
মঙ্গলবার সকালে নগরের নবগ্রাম রোড থেকে বটতলা এক কিলোমিটার দেখা গেছে পানিতে ডোবা। সেখানে বেশ কয়েকটি রিকশা ও অটো রিকশাকে পানিতে উল্টে যেতে দেখা গেল। এ নিয়ে যাত্রী আর চালকের মধ্যে লেগে যায় বাগবিতন্ডা। নগরের বগুড়া রোডেও হাটু পানি। পুলিশ হাসপাতালে ঢোকা যাচ্ছে না পানির জন্য। এমন চিত্র গতকাল বিকেলেও দেখা গেছে নগরের মুল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতেও। ঘুর্নিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে ঘরে ঘরে পানি ঢুকেছে এবার। যদিও পানি নিস্কাশনে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ ছিল ধীরগতির।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, তার বাসা এবং অফিসও এখন হাটু পানি। ১৭-১৮ ঘন্টা দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা আর নগরে হয়নি। তার মতে এর প্রধান কারন ৩টি। এগুলো হচ্ছে- নগরে সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া এবং সিটি করপোরেশনের ব্যার্থতা সত্ত্বেও পাউবোর খাল কাটা প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া। তিনি বলেন, এ সমস্যার সমাধানে নগরের চারপাশের ৭টি খাল খনন এবং ড্রেন সংস্কার করা জরুরী। মেয়র এখন সমস্ত প্রকল্প বাদ দিয়ে ড্রেন ও খাল সংস্কার না করলে সামনে ভয়াবহ অবস্থার পরিনত হতে পারে। কেননা পাউবো ৭ থেকে ১০ কোটি টাকায় ৭টি খাল খনন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটি স্থগিতর ফলে মানুষ পানিতে ডুবে আছে। মেয়র চাচ্ছেন তার ৩ বছর আগের আড়াই হাজার কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু মেয়াদের শেষ মুহুর্তে সেটি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ডা: রবিউল ইসলাম বলেন, বৃস্টি এবং জোয়ারের কারনে নগরে পানি উঠেছে। তার সোমবার রাত থেকেই ড্রেন, খাল পরিস্কার করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পানি নামবে কিভাবে, খাল তো ভরা। খালের পানি না নামলে নগর জলাবদ্ধ মুক্ত হবে না। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭ লাখ টাকায় নগরের ৭টি খাল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল ওই প্রকল্পের কোন সমন্বয় হয়নি বিসিসির সঙ্গে। সিটি করপোরেশন যে প্রকল্প জমা দিয়েছে সেটি মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদনের চেস্টা চলছে।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘বরিশাল নগরের জলাবদ্ধতা দুর করতে হলে খাল খনন প্রকল্প চালু করা দরকার। খালগুলো খনন করা দরকার। পরিস্কার করে কোন লাভ নেই।’
বরিশাল নদী-খাল বাচাঁও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় বরিশাল নগরবাসীর যে অধিকার তা ক্ষুন্ন হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদ গত ৪ বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কিছুই করতে পারেনি। খাল, পুকুর একের পর এক ভরাট হচ্ছে। কিন্তু বিসিসি দায়িত্বপ্রাপ্তরা নগরবাসীকে নিয়ে দৃশ্যমান কিছুই ভাবেনি।

Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.