নাগরিক রিপোর্ট : বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশালে ২দিন বাস ও তিন চাকার যানবহন বন্ধ ঘোষণাা পর এবার যাত্রীবাহি লঞ্চ বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। ৪ ও ৫ নভেম্বর লঞ্চ বন্ধ রাখার জন্য মালিকদের ওপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। যেকোন সময়ে লঞ্চ বন্ধের ঘোষণা আসতে পারে।
একাধিক লঞ্চ মালিক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস সোমবার বিকালে পোর্ট রোড লঞ্চ মালিক সমিতি ভবনে গিয়ে ৪ ও ৫ নভেম্বর লঞ্চ বন্ধ থাকার নির্দেশ দেন। এরপর সমিতির পক্ষ থেকে মালিকদের ফোন করে দুইদিন লঞ্চ বন্ধ রাখার জন্য বলা হচ্ছে।
একাধিক মালিক জানিয়েছেন, পরিমল নির্দেশ দেয়ায় লঞ্চ মালিকরা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। কারন পরিমল দাস বরিশাল লঞ্চঘাটের তালিকাভুক্ত শ্রমিক। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর্যন্ত শ্রমিক পেশা ছিল তার জীবিকার একমাত্র উৎস্য। দল ক্ষমতায় আসার পর তিনি শ্রমিক লীগের পদপদবী পেয়ে দাপুটে নেতায় পরিনত হয়েছেন। তিনি লঞ্চঘাটের নিয়ন্ত্রক ছাড়াও মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নও সভাপতি। মালিকরা জানান, একজন শ্রমিক হয়ে পরিমল এ ধরনের নির্দেশ দেয়ায় তারা অপমানবোধ করছেন। তবে পরিমল ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক নেতা হওয়ায় এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয় দেননি।
এ বিষয়ে জানতে পরিমল চন্দ্র দাসকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেই উচ্ছ্বাস কন্ঠে বলেন, ‘লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’। কেন বন্ধ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি জানেন না কেন বন্ধ হবে’? তিনি লঞ্চ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে পরিমল বলেন, ‘আমিতো সাধারন শ্রমিক, আমি কেন লঞ্চ বন্ধ করতে বলবো। শুনেছি মালিকদের কিছু দাবী আছে, তাই তারা দুইদিন লঞ্চ বন্ধ রাখবেন।
এ বিষয়ে জানতে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌযাত্রী পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) সমকালকে বলেন, লঞ্চ বন্ধ রাখার জন্য তিনি কাউকে নির্দেশনা দেননি। সংগঠনের নেতা হিসাবে এসব বিষয়ে তার জানাও নেই।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার বেলা ৪টায় সমকালকে জানান, লঞ্চ বন্ধ রাখার বিষয়ে মালিকপক্ষ থেকে তাদের কোন কিছু জানানো হয়নি। মালিকদের কোন দাবী-দাওয়া আছে কিনা- এসব বিষয়ে নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসাবে তার সঙ্গে মালিকরা আলোচনাও করেননি।
এদিকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সভাপতি মাষ্টার হাশেম জানান, শ্রমিকদের স্থানীয় পর্যায়ে কোন দাবীদাওয়া নেই। তাই স্থানীয়ভাবে কোন ধর্মঘট করার পরিকল্পনাও তাদের নেই। এই নৌযান শ্রমিক নেতা বলেন, ‘শুনেছি খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশের সময় ওপর মহলের নির্দেশে লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছে। বরিশালেও এ ধরনের কোন নির্দেশ আসলে শ্রমিকরা লঞ্চ চালাবে না’।
ঢাকা-বরিশাল রুটের সুন্দরবন-৯ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধের কোন নির্দেশনা তারা এখন পর্যন্ত পাননি।
জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল রুট ছাড়াও বরিশালে অভ্যন্তরীন ১১ রুটে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল করে। তারমধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা এবং ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালের সড়ক যোগাযোগ নেই। ওই এলাকায় যাতায়াতে লঞ্চই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া উপকুলীয় এলাকা হওয়ায় বিভাগের প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলার সঙ্গে বরিশালের নৌপথ রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ হলে বিকল্প হিসাবে নৌযাথে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৪ ও ৫ নভেম্বর বাস এবং তিনচাকার যানবহন মালিক
রা ধর্মঘট ঘোষনা দেয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের নৌপথে বরিশালে পৌছার সুযোগ ছিল। লঞ্চ ধর্মঘট দেয়া হলে সেপথও বন্ধ হয়ে যাবে।
একের পর এক পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, চট্ট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার পর বরিশালেও সরকার একই কাজ করবে তা আমাদের জানা ছিল। তাই আমরা সেরকম প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছি। বিভাগের অন্যান্য জেলার অনেক নেতাকর্মী এরই মধ্যে বরিশালে অবস্থান নিয়েছেন।
উল্লেখ্য,আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।##

Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.