আমতলী প্রতিনিধি:
আমতলীতে মাজরা পোকার আক্রমনে মাঠের পর মাঠ ধানের গাছ শুকিয়ে বিবর্ন হয়ে গেছে। উপজেলায় শত শত একর জমি মাজরা পোকার আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামনের শুকনো মৌসুমে ধান না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর আমতলী উপজেলায় ২৩ হাজার ৩শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেসকারী এক পরিসংখানে দেখা যায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আন্তত শতাধিক হেক্টর জমি মাজরা পোকায় আক্রান্ত হয়েছে।
মৌসুমের শুরুর দিকে ক্ষেতের রোপা আমন ধান গাছের চেহারা ভালো থাকলেও মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্ষেতের পর ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ধান গছের সর্বনাসী মাজরা পোকার আক্রমন। অক্টোবর মাসের ৩ থেকে ৫ তাারিখ সময়ে টানা ভারি বর্ষনে ধান ক্ষেত তলিয়ে যায়। এসময় থেকেই শুরু হয় মাজরা পোকার আক্রমন। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর রোদের তাপে মাজরা পোকায় আক্রান্ত ধানের গাছ শুকাতে থাকে। রোদের তাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্ষেতের পর ক্ষেত আমনের ধানের চারা শুকিয়ে বিবর্ন হওয়ার চেহারা দখা যাচ্ছে। বহু কষ্টে লাগানো নিজের ক্ষেতের এঅবস্থা দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিয়াখালী, মানিকঝুরি, নীলগঞ্জ, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া টেপুরা, উত্তর তক্তাবুনিয়া, কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়া গাছিয়া, চরখালী, চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী, কালিবাড়ি, পাতাকাটা ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ মাজরা পোকার আক্রমনে ধানের গাছ বিবর্ন হয়ে গেছে। গাছগুলো এমন ভাবে শুকিয়ে গেছে তাতে আর ফসল না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকের বিপুল পরিমান জমিতে ধান না হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়া গাছিয়া খানকা এলাকার কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ৩৬ শতাংশ জমিতে বিআর-২৩ লাগিয়েছি পোকার আক্রমনে সব ক্ষেত শুকিয়ে গেছে। মৌশুমে ধান তুলতে না পারলে পোলা মাইয়া লইয়া কি খামু হেই চিন্তায় আছি। সেরাজুল হক মৃধা বলেন, ৮০ শতাংশ জমিতে বিআর -২৩ লাগিয়েছি। খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। মাজরা পোকার আক্রমনে সব স্যাশ হইয়া গেছে। এহন কুমমে যামু হেই চিন্তায় অস্থির আছি। একই গ্রামের আলমগীর সিকদার, ইউনুস ঘরামী নারায়ন ডাক্তার, ওয়াজেদ ঘরামীসহ অনেক কৃষকের ক্ষেত মাজরা পোকার আক্রমনে ধানের চারা শুকিয়ে বিবর্ন হয়ে গেছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা গ্রামের আলতাফ হাওলাদার বলেন, মোর ১০০শতাংশ জমি মাজরা পোহে খাইয়া নষ্ট কইর্যা হালাইছে। কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কুকুয়া গ্রামের রাসেল মৃধা বলেন, মোর ১৬০ শতাংশ জমির ধান মাজরা পোহে খাইয়া হালাইছে। পশ্চিম কেওয়া বুনিয়া গ্রামের রফিক হাওলাদার বলেন মোর ৮০ শতাংশ জমির ধান মাজরা পোকায় খাইছে। আমতলী সদর ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামের সুলতান বিশ্বাস বলেন, আমার ৭০ শতাংশ জমি মাজরায় আক্রান্ত হয়ে ধানের গাছ শুকিয়ে গেছে। একই কথা বলেছেন নিজাম হওলাদার তার ৬৬ শতাংশ এবং নজীর গাজীর ৬৫ শতাংশ জমি পোকায় আক্রান্ত হয়েছে। হলদিয়া গ্রামের সানু বলেন, মোর ৫০ শতাংশ জমি মাজরা পোকায় খাইছে। আঠার গাছিয়া গ্রামের তালেব বলেন মোর ৪০ শতাংশ জমি মাজরা পোকায় খাইছে।
কুকুয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, মাজরা পোকায় আমন ধানের মাঝ খানের ডগা গোড়া থেকে কেটে দেয়। প্রথমে এটা বোঝার কোন উপায় থাকে না। রোদে পাতা যখন শুকাতে থাকে তখন টের পাওয়া যায়।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইছা বলেন, আমতলী উপজেলায় ব্যাপক হারে মাজরা পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। এই মুহুর্তে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরী করছি। এবং তাদের করনীয় নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি।
আমতলীতে মাজরা পোকায় ধান ক্ষেত আক্রান্তের খবর পেয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সায়েম রবিবার সকালে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়া গাছিয়া খানকা এলাকা পরিদর্শন করেন।
এবং তারা কৃষকের সাথে কথা বলেন। এসময় কৃষকের কি করনীয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাজরা পোকায় আক্রান্ত জমিতে পানি না থাকলে প্রথমে পানি সেচ দিতে হবে। পানি সেচের পর পর বিঘা প্রতি ৮-১০ কেজি ইউরিয়া এবং এমওপি সার দিতে হবে। মাজরায় আক্রান্ত জমিতে ফিফ্রোনিল কীটনাষকও ছিটিয়ে দিতে হবে।

Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.