লাখ লাখ টাকা বানিজ্য: বরিশালে ক্যাসিনোর ছোয়া জুয়ার আসরে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশালের প্রত্যন্ত গ্রামেগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় জুয়ার আসর চলছে দীর্ঘদিন ধরে। গ্রামের হাটবাজারে ঘরের মধ্যে তাস দিয়ে জুয়ার আসর বসিয়ে লাখ লাখ টাকার অবৈধ কর্মকান্ড চলছে। অনেকটা রাজধানীর ক্যাসিনো’র ছোয়াই পাওয়া যায় গ্রামগঞ্জের জুয়ার আসরে। নদীবেষ্টিত উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলদী, বাবুগঞ্জ এর চরে কিংবা বনের মধ্যে জুয়া খেলার জমজমাট আসর বসে। পুলিশের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালীরা এসব জুয়া খেলে বানিজ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, এসব আসরে জুয়া খেলতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন যুবসমাজ। মাঝে মাঝে লোকদেখানো পুলিশী অভিযানে জুয়ারীদের আটক করা হলেও আয়োজকরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর হয় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন মেঘনার বামনীর চরে। এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়। বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়ারীরা যান সেখানে। পাশের ইউনিয়ন লতার ইউপি সদস্য কামাল হোসেন হাওলাদার জানান, দড়িচড়-খাজুরিয়ার ইউনিয়ভূক্ত বামনীরচর মেঘনাবেষ্টিত একটি চর। যোগাযোগ ব্যবস্থা দূর্গম হওয়ায় ওই স্থানটি নিরাপদ হিসাবে বেঁছে নিয়েছেন জুয়ারীরা। মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবিদুর রহমানের কাছে বামনীচরে জুয়ার আসর সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবী করেন। এ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভাঙ্গা, চরসন্তোষপুর ও জয়নগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমজমাট জুয়ার আসরের খবর পাওয়া গেছে। তবে কাজীরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, জয়নগরে গ্রাম্য একটি বাজারে ঘরের মধ্যে জুয়া খেলার সময় গত সপ্তাহে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হিজলা উপজেলার মাউলতলা এলাকায় জমজমাট একটি জুয়ার আসরে সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালালে সেটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে। নদীবেষ্টিত আরেক উপজেলা মুলদীর চরপদ্মা, মৃধারহাট, ছবিপুর বাজার, উত্তর কাজীরচর জাইল্যাকান্দা, চরকমিশনার, রামারপুল, কুতুবপুর বাজারে জমজমাট জুয়ার আসর বসে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়াউল আহসান বলেন, এসব এলাকায় জুয়ার আসর বসার খবর পেলে পুলিশ সেখানে হানা দেয়। এ পর্যন্ত কয়েকজনকে আটকের পর হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল নগরী সংলগ্ন উপজেলা বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের বাহেরচর, মোল্লাহার, পশ্চিম ভূতেরদিয়া, রাহুতকাঠী ও দেহেরগতিতে বড় ধরনের একাধিক জুয়ার আসর বসে বলে জানা গেছে। পুলিশের সঙ্গে মাসোহারা চুক্তিতে এসব জুয়ার আসর পরিচালনা করেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীরা।
গৌরনদী উপজেলার মাহিলার ইউপির বিল্ব গ্রাম, বড় দুলালী গ্রাম, বাটাজোর, মাগুরা, বার্থী, শরিকল এলাকায় একাধিক জুয়ার আসর বসে নিয়মিত। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কতিপয় নেতারা এসব আসর থেকে প্রতিদিন ২ হাজার টাকা করে নেন। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জুয়ারীদের ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার রাকিব বলেন, আমাদের কাছে এধরনের জুয়ার আসরের সংবাদ রয়েছে। অভিযানও চালানো হচ্ছে। ডিবি ও থানা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেচে। অভিযানকালে ছোট ডেরা ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনকার সময় প্রশয় দেয়ার সুযোগ নেই। কোথাও যদি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় যে অর্থের বিনিময় জুয়াকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *