নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল গণপূর্তের সাড়ে ৯ একর জমি অবশেষে আওয়ামীলীগের নেতাদের কবল থেকে দখলমুক্ত হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাসেল ইকবালের নেতৃত্বে সদর উপজেলার তালতলী বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ওই জমি দখলমুক্ত করা হয়। এসময় ৮৮টি আধাপাকা ও কাঠের স্থাপনা বুলড্রেজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া ঘরগুলোতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ছিল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, বিএনপি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পৃথক ৩টি কার্যালয়।
জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহতব হোসেন সুরুজের নেতৃত্বে সাড়ে ৯ একর জমি দখল করা হয়েছিল। সেখানে আধাপাকা স্থাপনা করে মাছের বাজার, বালু খোলাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠাণের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। গত চার বছর যাবত এ দখল কার্যক্রম চললেও গণপূর্তের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী রহস্যজনক নীরব ভূমিকায় ছিলেন।
রোববার ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। তার আগে বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় মাইকিং করে দখলদার স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আল্টিমেটাম পেয়ে প্রায় সকল ব্যবসায়ী তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও মুুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় ৩টি ছাড়া অন্যান্য আধাপাকা স্থাপনা স্বেচ্ছায় ভেঙ্গে দিয়েছেন দখলদাররা। সকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মূলত ওই ৩টি কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয়।
বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট আলিবার গুদা জানান, দখলকৃত জমিতে মোট ৮৮টি আধাপাকা ও কাঠের স্থাপনা ছিল। তারমধ্যে ৭৫টি ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অবশিস্ট ১৩টিতে ছিল আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় এবং বসতঘর। রোববার উচ্ছেদ শেষে সেখানে কাটতারের বেড়া দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আবাসিক ভবন নির্মান করা হবে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।
গণপূর্তের জমিতে ডেরা ঘরতুলে হোটেল ও চটপটির দোকান চালাতেন যথাক্রমে জয়দেব ও মো. শহিদুল ইসলাম। উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে এ দুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিত্যাক্ত এ জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে তারাসহ অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনেক বছর যাবত ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৩/৪ বছর আগে ওই জমিতে চোখ পড়ে চেয়ারম্যান মাহতব হোসেন সুরুজের। তিনি ও তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম কবির পুরো জমিতে আধাপাকা স্থাপন করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেন। আর এজন্যই প্রশাসনের নজরে পড়ে এখন সকলকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে।
২০১৯-১১-২৪
