বাবুগঞ্জে আতংক: বরিশালে আ’লীগের সম্মলন ঘিরে তৃনমুলে ক্ষোভ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিকী সম্মেলন আগামী ৮ ডিসেম্বর। এ লক্ষে জেলার ১০ উপজেলায় শুরু হয়েছে সম্মেলন। যেকারনে উপজেলাগুলোতে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উপজেলায় সম্মেলনকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার, অর্থ ছড়ানো, পকেট কমিটি করা, তৃনমুল নেতাদের ভয়ভিতির অভিযোগ উঠেছে। বাবুগঞ্জে সর্বহারা আতংকে সম্মেলন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উজিরপুর ও বানারীপাড়ায় অর্থের বিনিময় পকেট কমিটি করার চেস্টায় বিক্ষোভ করেছে নেতাকর্মীরা। হিজলায় প্রভাব বিস্তারের কারনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের কাছে একাধিক উপজেলার নেতৃবৃন্দ অভিযোগ জানিয়ে অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর আহবান জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কতা থাকলেও শেষ মুহুর্তে তা স্থগিত হয়েছে। প্রভাব বিস্তারের কারনে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও সেখানে আতংক বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে। সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী অধিকাংশ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সম্মেলন না হওয়ায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ উপজেলায় সভাপতি পদ প্রার্থী বর্তমান সভাপতি কাজী এমদাদুল হক দুলাল ও সাধারন সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপন। কিন্তু সম্মেলনকে ঘিরে স্বপন চেয়েছেন ওয়ার্ড কমিটি না করে পকেট কাউন্সিলর সৃস্টি করতে। স্বপন এক সময় বিএনপি এমনকি জাপার রাজনীতি করে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দলে ঢুকেছে। ৯০ দশকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির নেতা ছিলেন। সম্মেলনের আগে স্বপন সর্বহারা লোকজন জরো করছেন। তার চাপের কারনে ওয়ার্ড ও ইউনয়নে নতুন নেতৃত্ব সৃস্টি না হওয়ায় আতংক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী এমদাদুল হক দুলাল বলেন, সম্মেলন ২৬ নভেম্বর হওয়ার কথা। কিন্তু এটি না হাওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, দলের সাধারন সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপন অধিকাংশ ইউনিয়নে ফরম বিতরন করেননি। তিনি তার ম্যানেজ করা আগের কমিটির মাধ্যমে সম্মেলন করতে চান। এটি দুরবিসন্ধি। স্বপন সভাপতি হওয়ার জন্য প্রভাব খাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্বপন নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকায় নেতাকর্মীরা আতংকিত। কাউন্সিলকে সামনে রেখে কিছু ক্যাডার ঘোরা ফেরা করছে এলাকায়। এসব বিষয় জেলা আ’লীগকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপন সম্মেলন নিয়ে নানা অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
হিজলা উপজেলায় আওয়ামী লীগের ২৭ নভেম্বরের সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেখানে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি ঘরে বসে করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রোববার বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় আ’লীগ। হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, এখানে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি হয়নি। বাড়িতে বসে এককভাবে সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু কমটি ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি অর্থের বিনিময়ে পদপদবী বন্টন করছেন। হরিনাথপুরে নামমাত্র সম্মেলন করায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইউনুস এসব বিষয় জেনে সমন্বয় করার নির্দেশ দিলেও সভাপতি তা কর্নপাত করছেন না।
উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২২ নভেম্বর থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়ন গোছাতে না পাড়ায় এবং প্রভাব বিস্তার, অর্থ ছড়িয়ে পকেট কমিটি করার পায়তারায় স্থগিত সম্মেলনের তারিখ এখনও নির্ধারন করেনি জেলা আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, উপজেলার উজিরপুরের শোলক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি গঠনের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ২ নেতা টাকা নিয়ে পদ বিক্রি করেছেন। উপজেলার সাতলায়ও পকেট কমিটি করার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, এ উপজেলায় বর্তমান সাধারন সম্পাদক আবুদল মজিদ সিকদার বাচ্চু ও সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান ইকবাল এর মধ্যে সভাপতি পদ নিয়ে দ্বন্দের কারনে সেখানে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ৪ নভেম্বর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটারদের প্রভাবিত করা, অর্থ ছড়িয়ে কাউন্সিলর ম্যানেজ করা লোভনীয় প্রস্তাব দেয়াসহ নানা কারনে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভোট দেয়ার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা স্বীকার করেছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি-সম্পাদক পদে প্রার্থীদের স্বপক্ষে ভোট দেয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের লোভনীয় অফার দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠেছে। যেকারনে কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, উপজেলা সম্মেলন করতে হলে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের কমিটি নতুন করে করতে হবে। উপজেলাগুলো এমনটা কতটু অনুসরন করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব খাটানো হলে দল তা বরদাস্ত করবে না। সুন্দরভাবে কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *