নাগরিক রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের স্বরযন্ত্র চলছে। তারা(বিএনপি) উন্নয়ন পারে না, স্বরযন্ত্র পারে। সাবধান, সাবধান। আ’লীগ ত্যাগীদের। এখানে চাঁদাবাজদের স্থান নেই। শীতের অতিথি পাখিদের আমাদের দরকার নেই। সুবিধাবাদী খারাপ লোকের দরকার নেই। তারা উন্নয়নের অর্জন উইপোকার মত কাটবে। রোববার বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে নগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেতাকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতিতে সম্মেলনের বিশাল সমাবেশে একচেটিয়া কর্তৃত্ব ছিল মেয়র সাদিক অনুসারীদের।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়ায় এ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক এ্যাড. গোলাম আব্বাছ চৌধুরী দুলাল। প্রধান অতিথি আ’লীগের সম্পাদক কাদের বেলা ১টা ৩৫মিনিটে যখন বক্তব্য শুরু করেন তখন সম্মেলন স্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যান নেতাকর্মীতে থৈ থৈ করছিল। পক্ষে বিপক্ষে শ্লোগানের মধ্যেই মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃস্টি করবেন না। ঘরের মধ্যে ঘর সৃস্টি করবেন না। মশারীর মধ্যে মশারী টানাবেন না। নেতাকর্মীদের সারাতেই বরিশালের এই বিশাল সম্মেলন। মনে রাখবেন, পোস্টার ব্যানার দিয়ে নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে হলে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, চ্যালেঞ্জ করে বলছি বিএনপি বরিশালে কোন উন্নয়ন করেনি। বিএনপি দিয়েছে দুর্নীতি আর লুটপাট। গড়েছে হাওয়া ভবন। দুর্নীতিতে তারা ৪ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। বিএনপি এখন আর আন্দোলন, নির্বাচনে নেই। তারা এখন নালিশ পার্টি। টেমস নদীর ওপার থেকে নির্দেশ আসে আর তা বাস্তবায়ন হয়। মোর্শেদ ভাই এর মত বিএনপির আরও অনেক উইকেটই পরবে। কেননা বিএনপির নেতৃত্বে এখন অস্তিত্বের সংকট।
আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উন্নয়ন প্রশ্নে বলেন, আর বেশি দেরি নেই যেদিন বরিশালের মানুষ পদ্মা সেতু পেড়িয়ে ঢাকা-বরিশাল যাতায়তে করবে। ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ফোর লেনও হবে। ভোরঅ-বরিশাল সেতু নির্মানেও হাত দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলেই জিডিপিতে এশিয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ।
সম্মেলনের উদ্বোধক আওয়ামী লীগের উপদেস্টা মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু বলেন, একাত্তরের রাজিত অপশক্তিরা চিরদিন স্বরযন্ত্র করে যাবে। বিএনপি জামাত ২০০১ সালে দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা আজকে স্বরযন্ত্র করে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মনে তাদের ঠাই নেই।
নগর আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্বত্য শান্তিচুক্তির আহবায়ক(মন্ত্রী) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আ’লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মো: আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ: ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী এ্যাড. স ম রেজাউল করিম, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক, কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা গোলাম রাব্বানি চিনু, বিপ্লব বড়ুয়া, নগর আ’লীগের বিদায়ী সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এ কে এম জাহাঙ্গীর, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ প্রমূখ।
স্বতস্ফুর্ত সম্মেলনে বিশাল সমাবেশ:
এর আগে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সর্বাধিক আলোচনা ছিল সভাপতি পদ নিয়ে। সদর আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক সভাপতি পদে জোর দাবীদার, এমন জোর আলোচনায় নগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনে কিছুটা উত্তাপও ছড়িয়ে ছিল। রোববার সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে জাহিদ ফারুক উপস্থিত থাকলেও তিনি এ পদের জন্য নিজেকে প্রার্থীতা ঘোষণা করেননি।
সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন মহানগরের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ.কে.এম জাহাঙ্গীর। সম্মেলনকে ঘিরে বরিশাল পরিনত হয়েছিল উৎসবের নগরীতে। সকাল ৮টার পর থেকে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীর মিছিলের ¯্রােত যেতে থাকে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের দিকে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সমর্থকরা নিজ নিজ পক্ষে শোডাউন করে তাদের শক্তিমত্ত¡া দেখান। এমনকি সম্মেলন স্থলেও পাল্টাপাল্টি প্লাকার্ড উচিয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
২০১৯-১২-০৮
