ওষুধ কারখানার বর্জ্যে দুষন ঘটছে কীর্তনখোলার

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল নগরীর সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের রাসায়নিক বর্জ্য কীর্তনখোলা নদীতে ফেলে নদী দুষন ঘটাচ্ছে। অপসোনিন ও ক্যামিস্টর মত এসব ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নগরীর বাহিরে স্থানান্তর হওয়ার কথা থাকলেও সরছে না। কিন্তু এক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর। এমনটা চললে কীর্তনখোলাকে বাঁচানো যাবে না। রোববার বরিশাল সার্কিট হাইজে পরিবেশ বিষয়ক এক সভায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।
বরিশাল জেলা প্রশসাক এস এম অজিয়র রহমান এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম রফিক আহমেদ।
সভায় পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা) এর সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, ওষুধ কারখানার বর্জ্য কীর্তনখোলা নদীর মধ্যে পড়ছে। এসব কারখানা নগরীর মধ্য থেকে বহু বছর আগেই সরে যাওয়ার কথা থাকলেও বহাল থেকে পরিবেশ দুষন করছে। মানুষ জানতে চায় এসব কারখানা নগরী থেকে কবে অপসারিত হবে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাড. এস এম ইকবাল বলেন, কীর্তনখোলা নদী ভয়াবহ দুষন ঘটছে। এজন্য দায়ী কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কারখানার বর্জ্য কীর্তনখোলায় পড়ছে। এগুলো না সরাতে পারলে কীর্তনখোলাকে বাঁচানো যাবে না। তিনি বলেন, নগরীর ঝাউতলা পুকুর দখলের পায়তারা করা হলেও পরিবশে অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, তার কাছে কি, আদালতের কাছে যান। নগরবাসী এমন মন্তব্য হতাশ।
সভায় একাধিক সাংবাদিক বলেন, অপসনোনি, ক্যামিস্টসহ বিভিন্ন ওষুধ কারখানার বর্জ্য কীর্তনখোলায় পড়ছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বলছেন কীর্তনখোলার দুষন এখনও বিপদজনক অবস্থায় পৌছায়নি। আর কত দুষন হলে কীর্তনখোলাকে রক্ষা করা হবে।
শেবাচিম হাসপাতালের একজন সহকারী পরিচালক বলেন, তার হাসপাতালেও বিজ্ঞান সম্মতভাবে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য রিসাইক্লিন হচ্ছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আবু সাঈদ বলেন, প্লাস্টিক ৫শ বছরেও ধ্বংস হয় না। সেই প্লাস্টিক কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে ফেলা হচ্ছে। যার ফলে নদী দুষনে মাছের প্রাচুর্যতা কমে যাচ্ছে। বরিশাল নৌ বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, লঞ্চ থেকে নদীতে যে বর্জ্য ফেলা হত তা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে।
এসব প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ কে এম রফিক আহমেদ বলেছেন, কীর্তনখোলা নদী দুষনকারী ওষুধ কারখানার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের এনফোর্সমেন্ট টিম শিঘ্রই এসব কারখানাকে নোটিশ দেয়াসহ বড় ধরনের জরিমানা করবে।
পরিবেশ বিষয়ক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাদিকুল ইসলাম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসরাইল হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো: আ: হালিম প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *